যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তেজনার মধ্যে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে বয়কটের আলোচনা জোরেশোরে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ও মিনিয়াপোলিসে পুলিশের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যু—এসব ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও টানাপোড়েনপূর্ণ হয়েছে। এর প্রভাব ফুটবল মহলে বিশ্বকাপ বয়কটের দাবিতে রূপ নিচ্ছে।
যদিও সমালোচকরা ট্রাম্পের নীতি ও কার্যক্রমকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরছেন, বাস্তবে বিশ্বকাপ বয়কট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতাদের একক বা সমন্বিত পদক্ষেপ। ফুটবল ফেডারেশন, খেলোয়াড় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত অংশ নিতে আগ্রহী থাকেন।
Table of Contents
কেন বয়কটের কথা উঠছে
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিন থেকেই বিতর্ক শুরু। তার কঠোর অভিবাসন নীতি, গণতান্ত্রিক নীতি শিথিলকরণ এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের আগ্রহ—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প নিজে বিশ্বকাপকে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার মঞ্চ হিসেবে দেখছেন, যা সমালোচকদের রোষের কারণ।
কারা বয়কটের কথা বলছেন
| দেশ / ব্যক্তি | মন্তব্য | অবস্থা |
|---|---|---|
| জার্মানি: সেন্ট পাওলির সভাপতি ওক গটলিশ | ‘সময় এসেছে বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে ভাবার’ | ব্যক্তিগত মত, ফেডারেশন নাকচ |
| জার্মানি: ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি বেয়ার্ন্ড নয়েনডর্ফ | ‘এ মুহূর্তে বয়কট ভুল পথে’ | বিষয়টি অগ্রাহ্য |
| ফ্রান্স: ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি | ‘আমাদের কোনো বয়কট ইচ্ছা নেই’ | সরকারি দৃষ্টিতে বয়কট বাতিল |
| ফ্রান্স: ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো | ‘বর্তমানে বিশ্বকাপ বয়কটের প্রশ্ন নেই’ | বয়কট প্রস্তাব বন্ধ |
| ইংল্যান্ড/স্কটল্যান্ড/স্পেন | বাস্তব কোনো আলোচনা নেই | নীরবতা |
| অস্ট্রিয়া: ফেডারেশন সভাপতি | ‘রাজনীতি ও খেলাকে আলাদা রাখতে চাই’ | বয়কটের সম্ভাবনা নেই |
বয়কট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
২০২৬ বিশ্বকাপকে বয়কট করতে হলে রাষ্ট্রপ্রধানদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। খেলোয়াড় ও ফেডারেশন আগ্রহী থাকলেও রাজনৈতিক চাপ ছাড়া কার্যকর বয়কট অসম্ভব। ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বয়কট ঘটেছিল ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে—সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান অভিযানকে প্রতিবাদে প্রায় ৬০ দেশ অংশ নেয়নি।
যদি ন্যাটোর দেশগুলো একসঙ্গে ট্রাম্পের নীতি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে, তবেই এ ধরনের বয়কট বাস্তবায়নযোগ্য হতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই নিশ্চিত দেশগুলো এবং সম্ভাব্য যোগী দেশগুলো দেখানো হলো:
| দেশ | যোগ/নিশ্চিত | ফিফা র্যাঙ্কিং (প্রায়) |
|---|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র | নিশ্চিত | 11 |
| কানাডা | নিশ্চিত | 41 |
| মেক্সিকো | নিশ্চিত | 13 |
| স্পেন | সম্ভাব্য | 7 |
| জার্মানি | সম্ভাব্য | 6 |
| ফ্রান্স | সম্ভাব্য | 3 |
| ইংল্যান্ড | সম্ভাব্য | 5 |
| নেদারল্যান্ডস | সম্ভাব্য | 8 |
| পর্তুগাল | সম্ভাব্য | 9 |
| বেলজিয়াম | সম্ভাব্য | 1 |
সমর্থক ও সমালোচক
কিছু সমর্থক, যেমন ইংল্যান্ডের এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠী ‘থ্রি লায়নস প্রাইড’, মাঠে না গিয়ে টেলিভিশনের মাধ্যমে বিশ্বকাপ দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাবেক ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটারও অনুরোধ করেছেন ফুটবলপ্রেমীরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে থাকুক।
শেষ পর্যন্ত কি হবে
বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের আশঙ্কা ক্ষীণ। ট্রাম্প আপাতত গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সুর নরম করেছেন। তবে তিনি খুব অননুমেয়; ভবিষ্যতে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর ওপর কোনো আকস্মিক হুমকি দিলে, ইউরোপীয় দেশগুলোকে হয়তো রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে বিশ্বকাপ বয়কটের পথ নিতে হতে পারে।
