খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ৩:১৯ পিএম

দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ এই সিরিজকে ঘিরে তাই প্রত্যাশার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও কম নয়। অস্ট্রেলিয়ার দ্রুতগতির ও বাউন্সি উইকেটের কথা মাথায় রেখে দল সাজানোর ক্ষেত্রে পেসারদের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচকদের। কিন্তু সফরের আগে চোট, পুনর্বাসন এবং ব্যক্তিগত কারণে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ পেসারকে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সেই পরিকল্পনাই এখন বড় পরীক্ষার মুখে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে তাকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে তার চোটের সর্বশেষ অবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর কথা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সিরিজে নাহিদের খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কাই বেশি। জানা গেছে, জিম্বাবুয়ে সফরে পাওয়া তার চোটটি গুরুতর প্রকৃতির হতে পারে। শেষ পর্যন্ত তিনি দলে না থাকলে অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন কন্ডিশনে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অস্ত্র কমে যাবে।
নাহিদ রানার সবচেয়ে বড় শক্তি তার গতি। অস্ট্রেলিয়ার পিচে দ্রুতগতির বোলিং কার্যকর হতে পারে, বিশেষ করে নতুন বলে এবং শর্ট বলের ব্যবহারে। ফলে তাকে হারানো বাংলাদেশের জন্য কেবল একজন পেসারকে হারানো নয়, বরং কন্ডিশন অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা হতে পারে।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অবশ্য নাহিদের চোট নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। তিনি জানিয়েছেন, খেলোয়াড়ের ফিটনেস ও চোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মূলত ফিজিও, ট্রেইনার ও টিম ম্যানেজমেন্টের। অর্থাৎ, নাহিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মেডিকেল দলের মূল্যায়নকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে সব খবরই নেতিবাচক নয়। অস্ট্রেলিয়া সফরে অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাসের ফেরার সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর। কাফ মাসলের চোটের কারণে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে বিসিবির পক্ষ থেকে তার চোট নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিট হয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আশা করা হচ্ছে। লিটনের অভিজ্ঞতা শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, উইকেটের পেছনেও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ফিরতে পারেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামও। চোট কাটিয়ে তিনি বর্তমানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তার পুনর্বাসন এগোলে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে মাঠে ফেরার সুযোগ রয়েছে। বাঁহাতি পেসার হিসেবে শরিফুলের উপস্থিতি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে পারে। বিশেষ করে ডানহাতি ও বাঁহাতি পেসারের সমন্বয় অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
লিটন ও শরিফুল—দুজনকেই সফরের আগে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ অথবা ৩ আগস্ট দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা তাদের। এর ফলে সফরের আগে নিজেদের ফিটনেস ও ম্যাচ প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন তারা।
অন্যদিকে, অভিজ্ঞ ডানহাতি পেসার এবাদত হোসেন পারিবারিক কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকছেন না। তার অনুপস্থিতি বাংলাদেশের পেস বিভাগে চাপ আরও বাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবাদতের অভিজ্ঞতা এমন একটি সফরে কাজে লাগতে পারত। তার না থাকা নির্বাচকদের জন্য দল সাজানোর কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে পেস আক্রমণ শক্তিশালী করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিবি। লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে থাকা ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতিতে তিনি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। তার অন্তর্ভুক্তি নাহিদ ও এবাদতের অনুপস্থিতিজনিত ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারে বলে আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। হাসানের পরিবর্তে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে খেলতে যাবেন রিপন মণ্ডল।
সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে বাংলাদেশের দল নির্বাচন এখন একাধিক সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে। একদিকে নাহিদ রানাকে পাওয়া যাবে কি না, অন্যদিকে শরিফুল ইসলাম কতটা দ্রুত পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারবেন—দুটি প্রশ্নের উত্তরই গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে এবাদতের অনুপস্থিতি যোগ হওয়ায় পেস বিভাগ নিয়ে নির্বাচকদের ভাবতে হচ্ছে নতুন করে।
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে সাধারণত গতি, বাউন্স ও সুইং সামলানো সফরকারী দলের ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে স্বাগতিক দলের শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিংও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নত পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তাই পূর্ণ শক্তির দল গঠন করতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার প্রত্যাশা থাকছেই।
স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দুই টেস্টেই নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে। বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে সেই পরিকল্পনায় বাধা তৈরি করা। আর সেই লড়াইয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হবে কার্যকর পেস আক্রমণ। সফরের আগে নাহিদ রানার চোটের অবস্থা, শরিফুলের ফিটনেস এবং হাসান মাহমুদের প্রস্তুতি—এই তিনটি বিষয়ই এখন বাংলাদেশের দল গঠনের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কারা অস্ট্রেলিয়ার বিমানে উঠবেন, সেটিই নির্ধারণ করবে গুরুত্বপূর্ণ এই টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের বোলিং পরিকল্পনার মূল চেহারা।
মন্তব্য