খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ৪:৪৫ পিএম

দেশে হাম পরিস্থিতির উন্নতি এখনও দৃশ্যমান নয়। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে আরও ৬১৩ জন। সব মিলিয়ে এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯১। শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২১। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫ শিশু। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৮১৬।
এক দিনের হিসাবেও সংক্রমণের চাপ কমেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি ৬১৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এই সময়ে ৫৮১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বিপরীতে চিকিৎসা শেষে ৪৭৯ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ফলে এক দিনে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর তুলনায় নতুন করে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১০২ জন বেশি। এই ব্যবধান স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চলমান চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সামগ্রিক হিসাবও পরিস্থিতির ব্যাপকতা তুলে ধরছে। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহজনক রোগীর মোট সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ২৭২ জনের শরীরে। একই সময়ে ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন বাড়ি ফিরেছে।
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত | ৭৮ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গযুক্ত রোগী | ৬১৩ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে মোট রোগী | ৬৯১ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু | ৬ শিশু |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু | ০ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি | ৫৮১ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র | ৪৭৯ জন |
| ১৫ মার্চ থেকে মোট সন্দেহজনক হাম রোগী | ১,২২,৭৬৩ জন |
| ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হাম রোগী | ১৫,২৭২ জন |
| ১৫ মার্চ থেকে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু | ৭২১ শিশু |
| ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু | ৯৫ শিশু |
| ১৫ মার্চ থেকে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু | ৮১৬ শিশু |
| ১৫ মার্চ থেকে মোট হাসপাতালে ভর্তি | ১,০৫,২৯৮ জন |
| ১৫ মার্চ থেকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র | ১,০১,৫৩৫ জন |
হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবেই নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আলাদাভাবে দেখানো হচ্ছে। ফলে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে হামজনিত—এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি টানা যায় না। এই পার্থক্যটি রোগের প্রকৃত চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়া এর পরিচিত লক্ষণ। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে রোগটি জটিল আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশু ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে হামের উপসর্গ দেখা দিলে আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। জ্বর ও র্যাশকে সাধারণ অসুস্থতা ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করলে জটিলতা বাড়তে পারে।
চলমান পরিস্থিতিতে রোগী শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসা, হাসপাতালের সক্ষমতা বজায় রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা এবং হামের সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত অসুস্থতার চাপ এখনও যথেষ্ট বেশি; তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা জরুরি।
মন্তব্য