চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় একটি নালা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় বিপুলসংখ্যক বুলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে বিএসআরএম কারখানার ৫ নম্বর গেটসংলগ্ন নালা পরিষ্কারের সময় এসব বুলেটের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া বুলেটের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া বুলেটের মধ্যে ১২০টি বড় আকারের এবং ১ হাজার ২০০টির বেশি ছোট আকারের। বড় আকারের বুলেটগুলো একে-৪৭সহ ভারী অস্ত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। তবে বুলেটগুলোর সঠিক ধরন, ব্যবহারযোগ্যতা এবং উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় বিএসআরএম কারখানার ৫ নম্বর গেটের পাশে নালা পরিষ্কারের কাজ চলছিল। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নালার ভেতরে একটি বস্তা দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় বস্তাটি খুলে বিপুল পরিমাণ বুলেট দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি বুলেটগুলো জব্দ করে। পরে সেগুলো নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিকভাবে গণনা করা হয়। উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের প্রকৃত সংখ্যা ও ধরন নির্ধারণে আরও যাচাই-বাছাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় বিএসআরএম কারখানার পাশের একটি নালা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় বুলেটগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২০টি বড় আকারের এবং ১ হাজার ২০০টির বেশি ছোট আকারের বুলেট রয়েছে।
তিনি বলেন, কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এত বিপুলসংখ্যক বুলেট নালার মধ্যে ফেলে রেখে গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ কীভাবে ওই স্থানে পৌঁছাল, কতদিন ধরে বস্তাটি সেখানে ছিল এবং এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বুলেটগুলো কোনো বৈধ উৎস থেকে এসেছে কি না, নাকি অবৈধভাবে সংরক্ষণ বা পরিবহনের অংশ হিসেবে সেখানে রাখা হয়েছিল, সেটিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাচাই করবে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা বুলেটের ধরন ও উৎস সম্পর্কে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সহায়তাও নেওয়া হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বুলেটগুলোর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি।
নালার মতো পরিত্যক্ত বা আড়ালযুক্ত স্থানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ পাওয়া যাওয়ায় ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে এসব বুলেট সেখানে রাখার উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা বের করার চেষ্টা চলছে।









