পাবনার সদর উপজেলার হিমাইতপুর ইউনিয়নের চর শিবরামপুরে শনিবার রাতের কোনো এক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা রমজান আলীকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে জখম করেছে। আহত রমজান আলী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের সভাপতি ও চর শিবরামপুর ভোটকেন্দ্রের পরিচালক।
জামায়াতের অভিযোগ, বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। এ অভিযোগের জবাবে রোববার বেলা ১১টায় পাবনা শহরের শহীদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলটির নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।
জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য রাখেন পাবনা পৌর জামায়াতের আমির আবদুল লতিফ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি রেজাউল করিম, শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা এবং সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল আইনুল। তারা হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও শহরে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। পরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তারা হামলার অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, “একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত মিথ্যাচার করছে। এই ঘটনায় আমাদেরও দুঃখ আছে, কিন্তু বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নয়। এটি পারিবারিক বা জমিজমা–সংক্রান্ত বিষয়।”
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পারিবারিক জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধ ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট হতে পারে।
নীচে ঘটনাস্থল ও মিছিলের তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আহত | রমজান আলী (বীর মুক্তিযোদ্ধা, জামায়াত নেতা) |
| স্থান | চর শিবরামপুর, হিমাইতপুর ইউনিয়ন, পাবনা সদর |
| সময় | ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, রাত ৯টার পর |
| আহতের অবস্থান | পাবনা জেনারেল হাসপাতাল, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি |
| জামায়াতের বিক্ষোভ | শহীদ চত্বর থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত মিছিল |
| বিএনপির প্রতিক্রিয়া | শহর প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন |
| তদন্তকারী সংস্থা | পাবনা সদর থানা |
পাবনা জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় নির্বাচনী ও পারিবারিক সমস্যা থেকে জটিল রূপ নিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন।
