দেশে হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর ঘটনা আবারও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও দুই শিশু মারা গেছে, যাদের দুজনই সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দা। একই সময়ে নতুন করে ৯৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ১০৮ শিশুর শরীরে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ ও সংক্রমণ মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৩৭৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৭৪ জন শিশু। ফলে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫৩ জনে।
একই সময়কালে বিপুল সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৫৭২ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার ২৮ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর ৩৬ হাজার ৬৪৫ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার কিছু ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। তবে আক্রান্তের উচ্চ হার এবং মৃত্যুর সংখ্যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ৭ হাজার ৫২৪ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি এবং মৌসুমি সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, হামের সংক্রমণ সাধারণত দ্রুত ছড়ায় এবং শিশুদের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। জ্বর, শরীরে র্যাশ, কাশি, চোখে লালভাব এবং শ্বাসকষ্ট হামের সাধারণ উপসর্গ হিসেবে ধরা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার সুবিধার্থে নিচে প্রধান পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—
সূচক
সংখ্যা
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন উপসর্গ
৯৬১ শিশু
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত
১০৮ শিশু
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু
২ শিশু
মোট উপসর্গ (১৫ মার্চ থেকে)
৫৬,৫৭২ শিশু
হাসপাতালে ভর্তি
৪১,০২৮ শিশু
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা
৩৬,৬৪৫ শিশু
নিশ্চিত হাম শনাক্ত
৭,৫২৪ শিশু
মোট মৃত্যু (উপসর্গ ও নিশ্চিত)
৪৫৩ শিশু
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য