দেশে হামের সংক্রমণ ও এর উপসর্গজনিত পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও দুই শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। নিহত শিশুদের একজন ঢাকা বিভাগ এবং অন্যজন বরিশাল বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিল। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ৩৭৭ জন শিশু হামের সংক্রমণ বা উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৫৩ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। বাকি এক হাজার ৩২৪ জনের ক্ষেত্রে হামের উপসর্গ দেখা গেলেও পরীক্ষার মাধ্যমে এখনো সংক্রমণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা বলছেন, উপসর্গের ভিত্তিতে এসব রোগীকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের হামের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে। এই সময়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ জনে। এর মধ্যে ৯০ জন শিশুর ক্ষেত্রে পরীক্ষায় হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে, আর বাকি ৪৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গজনিত জটিলতার কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে হামের কারণে নিউমোনিয়া, মারাত্মক পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য জটিলতা দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭০ হাজার ৯৩৬ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে বা পর্যবেক্ষণে এসেছে। এর মধ্যে ৫৬ হাজার ৮৮৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ৫২ হাজার ৮৪১ জন শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। একই সময়ে পরীক্ষায় মোট ৯ হাজার ৪৯ জন শিশুর শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির একটি সামগ্রিক চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট উপসর্গ দেখা দেওয়া শিশু | ৭০,৯৩৬ জন |
| হাসপাতালে ভর্তি শিশু | ৫৬,৮৮৬ জন |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা শিশু | ৫২,৮৪১ জন |
| পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী | ৯,০৪৯ জন |
| মোট মৃত্যু (হাম ও উপসর্গ) | ৫৮৫ জন |
| উপসর্গজনিত মৃত্যু | ৪৯৫ জন |
| নিশ্চিত সংক্রমণে মৃত্যু | ৯০ জন |
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ সাধারণত খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। টিকাদান না পাওয়া বা অসম্পূর্ণ টিকাদানপ্রাপ্ত শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। অপুষ্টি, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসও সংক্রমণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। শিশুদের জীবন রক্ষায় দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করাকেই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
