জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ৪:১৭ পিএম

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) ব্যাট হাতে নিজের বিধ্বংসী সামর্থ্যের আরেকটি ঝলক দেখালেন বাংলাদেশের ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। ইনিংসের একেবারে শেষদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৮ বলেই ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন জাফনা কিংসের এই ডানহাতি ব্যাটার। তার ছোট কিন্তু বিস্ফোরক ইনিংস দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচে তৈরি করে আরেকটি আলোচিত মুহূর্ত। হৃদয়ের মারা ছক্কার বল অসাধারণ দক্ষতায় লুফে নিয়ে এক দর্শক জিতে নিয়েছেন ১ লাখ টাকা পুরস্কার।
কলম্বো স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ম্যাচে জাফনা কিংসের ইনিংসের শেষ ওভারে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন হৃদয়। শুরুতে প্রথম দুই বলে মাত্র ১ রান নেওয়া এই ব্যাটার এরপর যেন পুরোপুরি বদলে যান। পাকিস্তানি পেসার শাহনেওয়াজ দাহানির করা ওভারের পরের বলগুলোতে একের পর এক আক্রমণাত্মক শট খেলেন তিনি। ওই ওভারে চারটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকিয়ে দলের স্কোর দ্রুত বাড়িয়ে দেন বাংলাদেশের এই তারকা।
হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসা ছক্কার একটি বল গ্যালারির দিকে উড়ে গেলে সেটি অসাধারণ কায়দায় তালুবন্দী করেন এক দর্শক। মাঠে ক্রিকেটারদের মতোই নিখুঁত ক্যাচ ধরে মুহূর্তের মধ্যেই আলোচনায় চলে আসেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যাচটি নেওয়ার পর আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন ওই দর্শক। তার সেই দুর্দান্ত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার হিসেবে তিনি পাচ্ছেন ১ লাখ টাকা।
দর্শকের এমন সৌভাগ্যের খবরে খুশি হয়েছেন হৃদয়ও। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ক্যাচের ভিডিও শেয়ার করে তিনি ওই দর্শকের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দেন। হৃদয় লেখেন, ‘ভাই, নিজের চেয়েও তোমার জন্য আমি বেশি খুশি। ওই ক্যাচটার জন্য তুমি ১ লাখ টাকা পাবে—এ খবরটা শুনে ঠিক কী অনুভূতি হয়েছিল, সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। অনেক ভালোবাসা রইল।’
ক্রিকেট মাঠে ছক্কা মেরে দর্শকের হাতে বল পৌঁছে যাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে সেই বল সরাসরি ক্যাচে পরিণত হওয়া এবং এর সঙ্গে বড় অঙ্কের পুরস্কার যুক্ত হওয়ায় ঘটনাটি ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে হৃদয়ের মতো জনপ্রিয় একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের ব্যাট থেকে আসা ছক্কার ক্যাচ হওয়ায় দর্শকের আনন্দও ছিল আলাদা।
এদিকে হৃদয়ের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের দিনটি দলীয়ভাবেও সফল হয়েছে জাফনা কিংসের জন্য। প্রথমে ব্যাট করে ২০২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে তারা। জবাবে নির্ধারিত রান তাড়ায় কলম্বো স্ট্রাইকার্স ১৮৩ রানের বেশি করতে পারেনি। ফলে ১৯ রানের ব্যবধানে জয় পায় জাফনা কিংস।
জয়ের পেছনে দলের বড় সংগ্রহ গড়ার ক্ষেত্রে শেষদিকে হৃদয়ের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাত্র ৮ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকা তার ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা ও একটি চার। অর্থাৎ অল্প সময় ক্রিজে থেকেও তিনি রান তোলার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষ কয়েক ওভারে দ্রুত রান সংগ্রহের গুরুত্ব বিবেচনায় এমন ইনিংস দলের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
চলতি এলপিএলে হৃদয়ের এটি দ্বিতীয় ম্যাচ। টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম ম্যাচেও ব্যাট হাতে নজর কেড়েছিলেন তিনি। ক্যান্ডির বিপক্ষে ২১ বলে ৩৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেছিলেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার। ফলে টুর্নামেন্টের শুরুতেই ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও হৃদয়ের এমন পারফরম্যান্স স্বস্তির খবর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে ব্যাটার হিসেবে তার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকে। আর কলম্বো স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ৮ বলে ৩১ রানের ইনিংসের সঙ্গে দর্শকের হাতে লাখ টাকার পুরস্কার—দুই মিলিয়ে ম্যাচটি হৃদয়ের জন্য হয়ে থাকল স্মরণীয় এক অধ্যায়।
মন্তব্য