জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ৪:১৩ পিএম

নরসিংদীর শিবপুরে রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করার বিনিময়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিন আকন্দ শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় এক নারী তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আশরাফ উদ্দিন।
সোমবার (২৭ জুলাই) অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শিবপুরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে ওই নারী অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারী নারীর দাবি, আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাকে রাত ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন। সেখানে দেখা করলে তার জন্য একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার কারণে এর আগেও তিনি বিভিন্ন সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় দেশের দরিদ্র, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষকে নানা ধরনের সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব সুবিধার মধ্যে খাদ্য সহায়তা, ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ফলে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে এসব সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বা বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠলে তা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে উদ্বেগ তৈরি করে। তবে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্মসূচির সুবিধা বাস্তবে আটকে দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে কেউ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন, আবার কেউ ভিডিওটির সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিন আকন্দ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার দলেরই কিছু লোকের প্ররোচনায় পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার পা ভেঙে যায় এবং এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। এ অবস্থায় রাত ১২টার সময় পুকুরপাড়ে গিয়ে কারও সঙ্গে দেখা করার অভিযোগকে তিনি অবাস্তব বলে দাবি করেন।
অভিযোগকারী নারী সম্পর্কে আশরাফ উদ্দিনের দাবি, তিনি মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের সময় ওই নারী তার কাছে কাপড় ও চালের স্লিপ চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা দিতে পারেননি। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিকভাবে তদন্তের কথা জানিয়েছেন শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। আশরাফ উদ্দিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় যদি মিথ্যা অভিযোগ করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে মূলত দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে—অভিযোগের সত্যতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না। স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার নামে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। আবার অভিযোগটি মিথ্যা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছড়ানো অপপ্রচারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত।
এ অবস্থায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য