স্ত্রী মামলা থেকে শামির মুক্তি

ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি আইনি জটিলতা থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। স্ত্রীর দায়ের করা চেক প্রত্যাখ্যান সংক্রান্ত মামলায় তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই মামলার রায়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবনে, যদিও পারিবারিক কিছু আইনি বিষয় এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি।

ঘরোয়া ক্রিকেট এবং ভারতের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা শামি সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের নিয়মিত সুযোগ না পেলেও মাঠের বাইরের এই মামলার কারণে বারবার আলোচনায় ছিলেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ও এক দিনের সিরিজেও তাকে বিবেচনা করা হয়নি নির্বাচক কমিটির পক্ষ থেকে।

মামলার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। শামির স্ত্রী হাসিন জাহান অভিযোগ করেন, সংসার ব্যয়ের জন্য দেওয়া এক লক্ষ টাকার একটি চেক ব্যাংকে জমা দিলে সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন এবং চেক প্রত্যাখ্যান সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আলিপুরের প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান ছিল।

বুধবার আদালত রায় ঘোষণা করে জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যথাযথ প্রমাণের অভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে মোহাম্মদ শামিকে এই মামলায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তে তার দীর্ঘ আইনি চাপের একটি বড় অধ্যায় আপাতত শেষ হলো।

তবে জানা গেছে, শামি ও তার স্ত্রীর মধ্যে ভরণপোষণ সংক্রান্ত আরেকটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শামি প্রতি মাসে স্ত্রীকে দেড় লক্ষ টাকা এবং সন্তানের খরচের জন্য আড়াই লক্ষ টাকা প্রদান করে আসছেন।

আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি শামি নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও সক্রিয় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ভারতের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন। ব্যক্তিগত জীবনের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি পেশাদার ক্রিকেটে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিগুলো নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো—

সময়কালঘটনা
২০১৮ সালস্ত্রী হাসিন জাহানের পক্ষ থেকে চেক প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ দায়ের
পরবর্তী বছরগুলোআলিপুর আদালতে মামলার নিয়মিত শুনানি
দীর্ঘ চার বছরসাক্ষ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন প্রক্রিয়া চলমান
সাম্প্রতিক রায়আদালত প্রমাণের অভাবে শামিকে বেকসুর খালাস প্রদান

মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর শামি এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, সব কিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, তবে তিনি নিজের চেষ্টা চালিয়ে যান এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবেন।