খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুলাই ২০২৬, ৫:২৫ পিএম

দেশে হামের সংক্রমণ এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে মোট এক হাজার ১৩ শিশু। নতুন রোগীর সংখ্যা এখনো হাজারের ঘরে থাকায় পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অর্থাৎ সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনাটি উপসর্গভিত্তিক হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, নিশ্চিত সংক্রমণজনিত মৃত্যুর তালিকায় নয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬৮৫ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ-সংশ্লিষ্ট কারণে এ পর্যন্ত ৭৮০ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এই সংখ্যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও এখনো উল্লেখযোগ্য। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৪০ শিশু। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৮৭৩ জন। ফলে একদিনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৩ জন। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংক্রমণের গতি পুরোপুরি কমে আসেনি এবং বিভিন্ন এলাকায় এখনো ভাইরাসের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৯৮ হাজার ৬০০ জন হাম রোগী। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৫ হাজার ৩১ জন। অর্থাৎ অধিকাংশ রোগী চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠলেও এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ অব্যাহত আছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি কিংবা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে খুব সহজেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন। যেসব শিশু জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সময়মতো হাম প্রতিরোধী টিকা পায়নি অথবা যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলেও সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, অপুষ্টিজনিত জটিলতা এমনকি মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি কোনো শিশুর জ্বরের সঙ্গে শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা রোগীর সংখ্যা আশাব্যঞ্জক হলেও প্রতিদিন নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা প্রমাণ করছে যে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানো, দ্রুত রোগ শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি—এই চারটি বিষয়েই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
হামের সর্বশেষ পরিস্থিতি (১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত)
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু | ১ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু | ০ |
| ১৫ মার্চ থেকে উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু | ৬৮৫ |
| ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হামে মোট মৃত্যু | ৯৫ |
| হাম ও উপসর্গ-সংশ্লিষ্ট মোট মৃত্যু | ৭৮০ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত আক্রান্ত | ১৪০ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত | ৮৭৩ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মোট আক্রান্ত | ১,০১৩ |
| ১৫ মার্চ থেকে মোট হাসপাতালে ভর্তি | ৯৮,৬০০ |
| চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে | ৯৫,০৩১ |
মন্তব্য