কবি নজরুল কলেজে সাংবাদিক হামলায় ছাত্রদলের ৬ নেতা শোকজ

কবি নজরুল সরকারি কলেজে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের সংঘর্ষ চলাকালে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রদলের ছয়জন নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে কলেজ শাখা ছাত্রদল। দায়িত্বশীল পদে থেকেও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক (দপ্তর সম্পাদক) মো. জামাল খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।


শোকজপ্রাপ্ত নেতাকর্মীদের তালিকা

নামপদবি
রাকিব হাসান রকিযুগ্ম আহ্বায়ক
সাব্বির আহমেদ ইভানযুগ্ম আহ্বায়ক
সাইফসদস্য
মাশরাফিসদস্য
উজ্জ্বলকর্মী
জীবনকর্মী

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কেন তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। কলেজ শাখার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে হাজির হয়ে লিখিত জবাব জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কীভাবে ঘটল সংঘর্ষ

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সূত্র জানায়, বৈশাখ উপলক্ষে ছাত্রদলের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে আগেই সংগঠনের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম ও সদস্য সচিব নাজমুল হাসানের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। সেই দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় পরদিন ক্যাম্পাসে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়।


সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে উপস্থিত হন দুই সাংবাদিক—

  • বিপ্লব শেখ, প্রতিনিধি (ডেইলি ক্যাম্পাস) ও দপ্তর সম্পাদক, কবি নজরুল কলেজ সাংবাদিক সমিতি
  • ওবায়দুল হক, প্রতিনিধি (সোনালী নিউজ)

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ভিডিও ও ছবি ধারণ করার সময় কিছু ছাত্রদল কর্মী তাদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং রড দিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।


হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে হামলায় জড়িত হিসেবে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—

  • রাকিব হাসান রকি
  • সাব্বির আহমেদ ইভান
  • উজ্জ্বল
  • জীবন
  • মাশরাফি
  • সাইফ
  • সাব্বিরসহ আরও কয়েকজন

তারা সবাই কলেজ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও কর্মী বলে জানা গেছে।


সংগঠনের অবস্থান

কলেজ ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নেতৃত্ব পর্যায় থেকে আরও জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সাংবাদিক সমাজের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


সব মিলিয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজের এই ঘটনা শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং ক্যাম্পাসে সহিংসতা, শৃঙ্খলা সংকট এবং সাংবাদিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রশাসন ও সংগঠন উভয়ের ওপরই এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির চাপ তৈরি হয়েছে।