সিলেট ও ময়মনসিংহে হাম-উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু

সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায়—বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত—এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একই সময়ে নতুন রোগী ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা এবং চিকিৎসাধীন রোগীর হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এই চব্বিশ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে তেইশ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বিশ জন শিশু। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট একশ চার জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ময়মনসিংহে মৃত্যুবরণকারী শিশুটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। শিশুটির বয়স ছিল নয় মাস। সে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা। বারো মে তাকে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, সিলেটে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মৃত শিশুটির নাম বন্ধন, যার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ মাস। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার ফলে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে বত্রিশ জনে।

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট তিনশ এগার জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে চৌষট্টি জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে এই সময়ে কোনো নতুন রোগী পরীক্ষাগারে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়নি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সার্বিকভাবে, সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী রোগী ভর্তি, সুস্থ হওয়া, মৃত্যু এবং চিকিৎসা কার্যক্রম একই সঙ্গে চলমান রয়েছে। হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন এসব সংখ্যা হালনাগাদ করা হচ্ছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরছে।

নিচে চব্বিশ ঘণ্টার প্রধান পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হলো—

সূচকসংখ্যা
নতুন ভর্তি রোগীতেইশ জন
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরাবিশ জন
বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীএকশ চার জন
নতুন সন্দেহভাজন ভর্তিচৌষট্টি জন
মোট চিকিৎসাধীন রোগীতিনশ এগার জন
পরীক্ষাগারে নতুন শনাক্তশূন্য জন
নতুন মৃত্যুদুই জন