জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ২:৫৭ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে বাস ও গরুবাহী নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও সাতজন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের নয়াবাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুই ভাই রয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন বড়াইগ্রাম উপজেলার পৌরসদরের লক্ষিকোল মহল্লার আব্দুর রহমান (৭০) এবং একই উপজেলার ধামানিয়া মহল্লার দুই ভাই আক্কাছ আলী (৫৯) ও জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি গরুবাহী নসিমন বনপাড়া এলাকা থেকে চান্দাইকুনা হাটের দিকে যাচ্ছিল। নসিমনটি নয়াবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি ঢাকা থেকে আসছিল।
সংঘর্ষের সময় নসিমনে থাকা কয়েকজন যাত্রী ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এতে নসিমনে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
ঘটনাস্থলেই আব্দুর রহমানের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আক্কাছ আলী ও তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু হয়। পরে নিহতদের মরদেহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
দুর্ঘটনায় আহত আরও কয়েকজনকে গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আহতদের মধ্যে কারও অবস্থার অবনতি হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও নসিমন সড়কে অবস্থান করায় উভয় দিকে যানবাহনের চাপ তৈরি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত যান সরানোর উদ্যোগ নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের ব্যস্ত অংশগুলোতে দ্রুতগতির বাস ও ট্রাকের পাশাপাশি নসিমন, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধীরগতির স্থানীয় যানবাহন চলাচল করে। এতে অনেক সময় গতির পার্থক্যের কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন হাটকে কেন্দ্র করে গবাদিপশু ও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য স্থানীয় যানবাহনের চলাচল বেড়ে যায়।
নসিমনের মতো স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত যানবাহন সাধারণত স্বল্প দূরত্বে কৃষিপণ্য, গবাদিপশু ও যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হলেও ব্যস্ত মহাসড়কে এগুলোর চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে বড় যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, অসতর্কভাবে ওভারটেকিং কিংবা চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো বিষয়ও মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তবে এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণে বাস ও নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ধীরগতির যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং চালকদের আরও সতর্ক করার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি হাটের দিনগুলোতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো হলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের পর সংঘর্ষের কারণ এবং এ ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
মন্তব্য