জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ৬:২৮ পিএম

চট্টগ্রামে এক গণসমাবেশে পুলিশের বিরুদ্ধে অতীতের সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল আলম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ অংশ নেই এবং তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী টানেল মোড়ে ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে বক্তব্য দেন জোবাইরুল আলম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষে গণরায়ের বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বক্তৃতার একপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে দলীয় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তিনি জুলাই আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। সে সময় তিনি বলেন, “আপনারা কি ৩৬ জুলাই দেখেন নাই? তখন কীভাবে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা থানাগুলোকে জ্বালিয়ে দিয়েছিল? আপনারা কি তখন দেখেন নাই, জনগণের টাকায় চলা এই পুলিশকে আমরা পিটিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিলাম?”
সমাবেশে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের প্রায় ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি জোবাইরুল আলম নিজেও তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। এরপর বক্তব্যের ওই অংশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভিডিওতে তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, “আমরা ইউএনওকে প্রশ্ন করতে চাই, ওসিকে প্রশ্ন করতে চাই; আপনারা কি ৩৬ জুলাই দেখেন নাই?” তাঁর অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি।
বর্তমান প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর দাবি, আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনে এখনো দলীয় প্রভাব বিদ্যমান। বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা এখনো দেখি, আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, তারা দলীয় স্বজনপ্রীতি করতেছে। আমরা এখনো দেখতেছি, এমপির নির্দেশনা ছাড়া কোনো একটা ফাইল উপজেলা প্রশাসনে নড়ে না।”
প্রশাসনের উদ্দেশে সতর্কবার্তাও দেন তিনি। বক্তব্যে বলেন, “আপনারা আবার যদি আওয়ামী লীগ হয়ে উঠতে চান, আমরা যেমন আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরতে দেব না, কাউকে আওয়ামী লীগ হয়ে উঠতেও দেব না, ইনশা আল্লাহ।”
তবে বক্তব্যটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন জোবাইরুল আলম। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁর বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ তুলে ধরা হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অতীতের সংঘাতময় পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চান না; বরং প্রশাসন যেন এমন কোনো আচরণ না করে, যাতে জনগণের ক্ষোভ আবারও সংঘাতে রূপ নেয়।
জোবাইরুল আলম বলেন, “আমরা চাই না, জনগণের যে ক্ষোভ আছে, সেটা আরও বাড়ুক। জুলাই আন্দোলনের সময় যেমন পরিস্থিতি হয়েছিল, আমরা চাই না, আবার প্রশাসনের সঙ্গে সে রকম মুখোমুখি অবস্থা তৈরি হোক। বক্তব্যে এটাই বুঝিয়েছিলাম। আমরা চাই, একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হোক।”
এদিকে বিষয়টি নিয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জনসম্মুখে একজন রাজনৈতিক নেতা যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তাঁর নিজস্ব বিষয়। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চান না।
উল্লেখ্য, সমাবেশটি আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আবদুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবুল হাসান। এতে ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। জোবাইরুল আলমের বক্তব্যকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে তাঁর দাবি, বক্তব্যের আংশিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত বক্তব্যের প্রেক্ষাপট অনেকাংশেই অনুপস্থিত থেকেছে।
মন্তব্য