জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ১:২৬ পিএম

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে মানতে নারাজ লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ওই সময়ের আন্দোলনের নেপথ্যে দেশীয় রাজনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূমিকা ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ছিল এবং আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ককে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আলাপ’-এর একটি পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরহাদ মজহার বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় তিনি সমন্বয়কদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর দাবি, ২ আগস্ট রাতেও তিনি আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
ওই কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ফরহাদ মজহার বলেন, নাহিদ ইসলাম তাঁকে জানিয়েছিলেন যে আন্দোলনের একটি পর্যায়ে সমঝোতার চাপ তৈরি হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার জন্যও চাপ ছিল। তবে পদত্যাগের পর বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোই বহাল রাখার একটি পরিকল্পনা ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
সাক্ষাৎকারে ফরহাদ মজহারের সবচেয়ে আলোচিত বক্তব্যগুলোর একটি হলো আন্দোলনের সময় কয়েকজন সমন্বয়কের অবস্থান নিয়ে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন সমন্বয়ক তখন মার্কিন দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি ‘নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে’ অবস্থান করছিলেন। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনার পদত্যাগের পথ সুগম করতে চেয়েছিল।
নাহিদ ইসলাম যখন গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন হাসপাতালের সামনে একটি গাড়ি সার্বক্ষণিক অবস্থান করত বলেও দাবি করেন ফরহাদ মজহার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই গাড়ির সঙ্গে কথিত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক ছিল। তবে এসব দাবির পক্ষে সাক্ষাৎকারে তিনি কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আন্দোলনটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় পরিচালিত হয়েছিল কি না—সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্ন করা হলে ফরহাদ মজহার যুক্তরাষ্ট্রের আগের বিভিন্ন বক্তব্য ও সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
নিজের পুরোনো বক্তব্যের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। ফরহাদ মজহার জানান, ২০২৩ সালে গণঅধিকার পরিষদের একটি আলোচনা সভায় তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা সরকারকে সরানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা নেবে এবং এ কারণে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না—এমন ধারণা তিনি তখন প্রকাশ করেছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নতুন করে জোরালো হয়। পরবর্তী সময়ে সংঘাত, প্রাণহানি ও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে আন্দোলনের চরিত্র বদলে যায় এবং তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং দেশ ছাড়েন; সেদিন ঢাকায় তাঁর পদত্যাগ উদ্যাপন করে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
ফরহাদ মজহারের বক্তব্য মূলত ২০২৪ সালের আন্দোলনের রাজনৈতিক চরিত্র, দেশীয় নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এনেছে। তাঁর ‘নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র’, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং সমন্বয়কদের অবস্থানসংক্রান্ত দাবিগুলো নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। ফলে সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যগুলোকে আপাতত তাঁর ব্যক্তিগত দাবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য