সিলেটে মাজার জিয়ারতে আসা প্রতিবন্ধী তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আটক ৩

সিলেটের পুণ্যভূমিতে মাজার জিয়ারত করতে এসে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণী (৩০) পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গত সোমবার রাতে নগরের লোহারপাড়া এলাকায় এই দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন ব্যক্তিকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৯)।

ঘটনার বিবরণ ও প্রেক্ষাপট

ভুক্তভোগী তরুণী গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর বার্ষিক ওরস মোবারক উপলক্ষে এবং মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিলেট শহরে আসেন। সোমবার রাতে তিনি হযরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষ করে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশাচালক আতিকুর রহমান পথিমধ্যে তরুণীর সাথে আলাপচারিতার একপর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আতিকুর তাকে নগরের লোহারপাড়া এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে অপর অটোরিকশাচালক আশিকুর রহমানের সহায়তায় শামসুল হকের ভাড়া বাসায় তরুণীকে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আতিকুর, শামসুল ও আশিকুর মিলে ওই তরুণীকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও আটক

মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী তরুণী স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তার ওপর হওয়া নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাবকে অবহিত করেন। তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯-এর একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তিদের পরিচয় ও গ্রেফতারের বিস্তারিত তথ্য নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

ক্রমিকআটককৃত ব্যক্তির নামবয়সএলাকা/ঠিকানাপেশাআটকের সময় ও স্থান
০১আতিকুর রহমান৪০মাহালদি, বিমানবন্দর এলাকাঅটোরিকশাচালকদুপুর ২টা, লোহারপাড়া
০২শামসুল হক৪৫লোহারপাড়া এলাকাদুপুর ২টা, লোহারপাড়া
০৩আশিকুর রহমান৩০অটোরিকশাচালকবিকেল ৫:৩০, হুমায়ুন রশীদ চত্বর

বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি পদক্ষেপ

র‍্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছে। ভুক্তভোগী তরুণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জঘন্য অপরাধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিলেটের ধর্মীয় পবিত্রতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন।

বর্তমানে ভুক্তভোগী তরুণী হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার ডিএনএ প্রোফাইলিং ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।