বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিমানঘাঁটি ও ফ্লাইং একাডেমি স্থাপনের মহাকর্মপরিকল্পনা

সরকার বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর চালু করার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উত্তরাঞ্চলের আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে এই প্রকল্পের আওতায় একই সাথে একটি আধুনিক বিমানঘাঁটি এবং দক্ষ বৈমানিক তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি স্থাপন করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পরিদর্শন ও প্রতিনিধিদলের পর্যবেক্ষণ

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল বগুড়া বিমানবন্দরের বর্তমান অবস্থা ও বাণিজ্যিক বিমানসেবা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করেন। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন:

  • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

  • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

  • বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

  • বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।

  • বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উত্তরাঞ্চলের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হিসেবে বগুড়াকে গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশে দক্ষ পাইলটের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের ফ্লাইং একাডেমি স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি

বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের মূল বিষয়গুলো নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

বিষয়ের নামবিস্তারিত তথ্য ও পরিকল্পনা
প্রকল্পের প্রকৃতিআন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আধুনিক বিমানঘাঁটি ও ফ্লাইং একাডেমি।
রানওয়ে সম্প্রসারণআন্তর্জাতিক মানের উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে নতুন করে ১০,৫০০ বর্গফুটের রানওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত।
প্রশিক্ষণ সুবিধাসামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতের জন্য দক্ষ পাইলট তৈরির ফ্লাইং একাডেমি।
বিশেষ সুবিধাকৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্য রপ্তানির জন্য অত্যাধুনিক ‘কার্গো ভিলেজ’ বা কার্গো সুবিধা।
বর্তমান অবস্থাবিমানবাহিনীর ট্রেনিং স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক প্রভাবকৃষি যন্ত্রাংশ ও হালকা প্রকৌশল শিল্পপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারজাতকরণ।

কার্গো সুবিধা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ব্রিফিংকালে জানান, আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় কার্গো সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতিমধ্যে অনুশাসন জারি করা হয়েছে এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছে।

এই বিমানবন্দরটি চালু হলে বিশেষ করে বগুড়া অঞ্চলের কৃষি ও শিল্প খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে এই অঞ্চলে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি কৃষি যন্ত্রাংশ ও হালকা প্রকৌশল পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। কার্গো বিমান চলাচলের সুবিধা থাকায় এই এলাকার ব্যবসায়ীরা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

সামরিক ও বেসামরিক সমন্বয়

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বগুড়ায় উত্তরাঞ্চলের প্রথম অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে বিমানবাহিনী এখানে তাদের ট্রেনিং স্কুল পরিচালনা করছে। প্রস্তাবিত নতুন ফ্লাইং একাডেমিটি বিমানবাহিনীর বৈমানিকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক পাইলট তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কার্গো সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের এই সমন্বিত উদ্যোগ উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।