সাভারে মাদক সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা ও আহত ৪

ঢাকার সাভারে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মাদক কারবারিদের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন সংবাদকর্মীসহ চারজন। শুক্রবার (২২ মে, ২০২৬) বিকেলে সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে চারজনকে আটক করেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হামলার বিবরণ

তাইফুর রহমান, ক্যামেরাপারসন কাইয়ুম এবং চালক জয়নাল একটি অ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসেবে সাভারে মাদকের বিস্তার নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যান। সেখানে তাঁদের সাথে যুক্ত হন এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন। এলাকাটি মাদক কারবারি শামীমের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

সংবাদকর্মীরা যখন মাদক কেনাবেচার স্পটে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন, তখন অতর্কিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দেশি অস্ত্র ও ধারালো চাকু নিয়ে সাংবাদিকদের ঘিরে ফেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাদক কারবারি শামীমের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন এই হামলায় অংশ নেয়। হামলাকারীরা কেবল সাংবাদিকদের শারীরিক আঘাতই করেনি, বরং তাঁদের ব্যবহৃত গাড়িটিও ভাঙচুর করে।

জখম ও চিকিৎসার পরিস্থিতি

হামলায় সাংবাদিক তাইফুর রহমানের পেট ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়। অন্যদিকে সাদ্দাম হোসেনকে লক্ষ্য করে পিস্তল উঁচিয়ে হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর চোখের কোণসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে তিন দফায় ছুরিকাঘাত করা হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহতদের বর্তমান অবস্থা:

  • সাদ্দাম হোসেন: চোখের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অফথালমোলজিতে (জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট) রেফার করা হয়েছে।

  • তাইফুর রহমান: তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বজনদের অনুরোধে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

  • অন্যান্য: ক্যামেরাপারসন ও চালককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হামলার শিকার ব্যক্তিদের তালিকা ও আঘাতের ধরন

নামপদবি ও প্রতিষ্ঠানআঘাতের বিবরণবর্তমান অবস্থান
তাইফুর রহমানজ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকপেট ও পিঠে ছুরিকাঘাতউন্নত চিকিৎসাধীন
সাদ্দাম হোসেনসাভার প্রতিনিধিচোখে ও শরীরে গুরুতর জখমন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট
কাইয়ুমক্যামেরাপারসনশারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধরপ্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পর্যবেক্ষণে
জয়নালগাড়ি চালকশারীরিক আঘাত ও জখমপ্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পর্যবেক্ষণে

অপহরণ ও জিম্মি দশা

সাংবাদিক তাইফুর রহমান জানান, হামলার পর তাঁদের ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের জোরপূর্বক শামীমের মালিকানাধীন একটি গ্যারেজে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানেও তাঁদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁরা হাসপাতালে যাওয়ার অনুরোধ করলে হামলাকারীরা তাঁদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করার এবং মুচলেকা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে।

আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে জিম্মি দশা থেকে সাংবাদিকদের উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকেই চারজনকে আটক করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত মাদক কারবারি শামীমসহ পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোনিয়া রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় জরুরি সেবা প্রদানের পর তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।