খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৫ এএম

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্রমাগত হুমকির প্রেক্ষিতে তাদের কূটনৈতিক ও সামরিক নীতি একেবারে পরিবর্তন করেছে। সম্প্রতি দেশটি ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার জন্য সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া হবে। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
Table of Contents
ইউএই বর্তমানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সামরিক অভিযানকে বৈধতার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গঠনের জন্য লবিং করছে।
একজন আমিরাতি কূটনীতিক জানিয়েছেন, “ইরান বর্তমানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যকে জিম্মি করতে চায়। তাই হরমুজ খুলতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই।”
আমিরাত প্রথমে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ, নৌপথ নিরাপত্তা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, বিতর্কিত আবু মুসা দ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি তুলেছে।
উল্লেখ্য, আবু মুসা দ্বীপটি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে ইরানের দখলে থাকলেও আমিরাত এটি নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।
সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। তবে সরাসরি সৈন্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি তারা দেয়নি।
উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত মঙ্গলবার ইরান প্রায় ৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছুড়েছে আমিরাতের দিকে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড দখলে সহায়তা করে তবে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।
এ পর্যন্ত ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে প্রায় ২,৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন, যা ইসরায়েলের তুলনায় বেশি। এতে দুবাইয়ের হোটেল, বিমানবন্দর ও পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।
চ্যাথাম হাউসের ফেলো বিলাল সাবের জানিয়েছেন, জেবেল আলী বন্দর এবং ভৌগোলিক অবস্থান মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযান চালানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষক এলিজাবেথ ডেন্ট সতর্ক করেছেন, যদি ইরানকে পুরোপুরি পঙ্গু না করে সরাসরি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরে যায়, তবে আমিরাত একা মোকাবিলা করতে বাধ্য হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সক্রিয় পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলেছে। একদিকে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার বৈশ্বিক চাপ, অন্যদিকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকি—এই দুইয়ের মাঝে দেশগুলো কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দেশ | সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) |
| মূল লক্ষ্য | হরমুজ প্রণালি সচল রাখা |
| সামরিক প্রস্তুতি | যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিকল্পনা |
| কূটনৈতিক পদক্ষেপ | জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বৈধতা চাওয়া, জোট গঠন লবিং |
| দ্বীপ/নিয়ন্ত্রণ | আবু মুসা, হরমুজ গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চাওয়া |
| সাম্প্রতিক ইরানি হামলা | ৫০ ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র + ড্রোন, প্রায় ২,৫০০ লক্ষ্যবস্তু |
| ভৌগোলিক কৌশল | জেবেল আলী বন্দর ও আমিরাতের অবস্থান মার্কিন অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ |
| সামরিক সক্ষমতা | এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, নজরদারি ড্রোন, আধুনিক বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত |
উপসংহার
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই পদক্ষেপ বিশ্ববাণিজ্য, সমুদ্রপথ নিরাপত্তা ও সামরিক সংঘাতের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি সচল রাখা, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ নিরাপদ করা এবং ইরানের প্রতিশোধ মোকাবিলা করা দেশের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
মন্তব্য