খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুন ২০২৬, ৮:৭ পিএম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মক্তবে যাওয়ার পথে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনোয়ার (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিশুর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শিশুটি প্রতিদিনের মতো নিজ বাড়ি থেকে মক্তবে পড়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয় মসজিদের দিকে রওনা হয়। পথিমধ্যে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন কৌশলে শিশুটিকে ডেকে পথের পাশে অবস্থিত একটি খালি বা পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর শিশুটি কোনোমতে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে বিস্তারিত জানায়। রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে শিশুটি উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আনোয়ারকে আটক করেন। পরে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও চিকিৎসা সহায়তার প্রধান তথ্যসমূহ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিবরণ |
| ভুক্তভোগী | শিশু (বয়স: ৮ বছর) |
| ঘটনার সময় ও স্থান | মঙ্গলবার, সকাল আনুমানিক ০৬:৩০ মিনিট; শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | আনোয়ার (বয়স: ৪০ বছর) |
| বর্তমান অবস্থা (অভিযুক্ত) | পুলিশি হেফাজতে আটক |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল |
| তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ | শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ |
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার ও যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে তৎপর ভূমিকা পালন করে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) ও সুচিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সংগৃহীত আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই করছে। চিকিৎসকের প্রতিবেদন (মেডিকেল রিপোর্ট) হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিত তথ্য আইনি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশি নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।
মন্তব্য