যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় অবধারিত

ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান চিফ অব স্টাফ রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সায়ারি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত পরাজিত হবে এবং সেই পরাজয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় মনোবল, কৌশলগত সক্ষমতা এবং জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনই এই সম্ভাব্য বিজয়ের মূল ভিত্তি।

বৃহস্পতিবার ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা পরিদর্শনকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত ঘটনাও তুলে ধরেন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অ্যাডমিরাল সায়ারি বলেন, ইরানের সামরিক কাঠামো বহু চাপ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নিজেদের সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে দৃঢ় ঐক্য বিদ্যমান, যা যেকোনো বহিঃশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের নৌবাহিনী প্রথমবারের মতো ভূমধ্যসাগরে উপস্থিত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। তাঁর মতে, উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের নির্দেশনায় এবং সব ধরনের সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে এই অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে বাব আল-মানদাব প্রণালি ও লোহিত সাগর অঞ্চলে নৌবাহিনীর উপস্থিতিকে তিনি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

সায়ারি তাঁর বক্তব্যে অতীতের কিছু আন্তর্জাতিক সংঘাতের উদাহরণ টেনে বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ইতিহাসে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এসব হস্তক্ষেপ অনেক সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে, তবে ইরানের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি সফল হবে না।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি একটি সামরিক সংঘর্ষের পর ইরান ধারাবাহিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং বহু পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে পাল্টা আঘাত হানে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয় বলে তিনি দাবি করেন।

অ্যাডমিরাল সায়ারি বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, শহীদদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় এই সংস্থার কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শহীদদের জানাজায় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণকে জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণের সামাজিক সহনশীলতা ও ঐক্য আরও বেড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এই ঐক্য সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ।

বক্তব্যের সারসংক্ষেপ

বিষয়মূল বক্তব্য
সম্ভাব্য যুদ্ধযুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হবে বলে দাবি
জনগণের ভূমিকাজাতীয় ঐক্য ও সমর্থনকে মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ
নৌবাহিনীর উপস্থিতিভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরে কৌশলগত অবস্থান
সামরিক প্রতিক্রিয়াপাল্টা আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির দাবি
বেসামরিক সংস্থাশহীদদের মরদেহ ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
জাতীয় ঐক্যজনগণের সহনশীলতা ও সমর্থন বৃদ্ধি

অ্যাডমিরাল সায়ারি তাঁর বক্তব্যে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, কৌশলগত অবস্থান এবং জনগণের ঐক্যকে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।