জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ১:৩৪ পিএম

রাজধানীর বনানীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে ঝটিকা মশাল মিছিলের প্রস্তুতিকালে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বনানী থানা পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত (শুক্রবার, ৭ আগস্ট) আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে বনানী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দায়িত্ব পালনকালে গোপন খবর পায়। এতে জানা যায়, সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে আর্মি স্টেডিয়ামের দিকে যাওয়ার পথে মহাসড়কের বিপরীত পাশে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জনের একটি সুসংগঠিত দল মশালসহ ঝটিকা মিছিলের প্রাক-প্রস্তুতি নিচ্ছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বনানী থানা পুলিশ কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলের প্রস্তুতিতে থাকা ব্যক্তিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকেই নাশকতার চেষ্টায় লিপ্ত ৭ জনকে হাতেনাতে আটক করে। তবে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাতনামা অন্য কয়েকজন সটকে পড়ে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নাশকতায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
৭০টি প্রজ্জ্বলনযোগ্য মশাল
১টি দলীয় ব্যানার
৭৭টি বিশেষ ফেসমাস্ক (যা পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে সংগৃহীত হয়েছিল)
আটককৃতদের প্রাথমিক পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ এবং ৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। প্রাপ্তবয়স্ক ৩ জন হলেন— ১. মোঃ আরিফ (১৯) ২. মোঃ শাকিল আহমেদ (১৯) ৩. আশিক আহমেদ মোস্তফা (১৯) অন্য চারজনকে আইনি কাঠামোর আওতায় ‘আইনের সংঘাতে জড়িত শিশু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বনানী থানার পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং অবৈধ ঝটিকা মিছিলের পেছনে কলকাঠি নাড়া মূল পরিকল্পনাকারী ও আয়োজকদের শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য