
সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ এই দুই মৃত্যুর পর হাম অথবা হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ জনে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগজুড়ে এখনো শতাধিক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রয়ে গেছে।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া শিশুদের একজন সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা নুরুল আমিনের এক বছর পাঁচ মাস বয়সী ছেলে ইয়ামিন। অপরজন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আব্দুল মুনিবের আট মাস বয়সী কন্যা আনিসা। তারা দুজনই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৯৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সঙ্গে আগের ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে নতুন করে আরও ৯৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, আক্রান্তের চাপ এখনো পুরোপুরি কমেনি এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১২২ জনের মধ্যে মাত্র ছয়জনের শরীরে পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল। বাকি ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। অর্থাৎ, তাদের ক্ষেত্রে উপসর্গ থাকলেও ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার আগেই মৃত্যু ঘটে অথবা পরীক্ষার সুযোগ হয়নি।
অন্যদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় মোট ৭৮৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এই তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সংক্রমণ ও মৃত্যুর সর্বশেষ চিত্র থেকে স্পষ্ট, চলতি বছর সিলেট বিভাগে হাম জনস্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
> হামে আরও তিন মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ১,২১৮
> বগুড়ায় বাসচাপায় সাত শ্রমিক নিহত
> ড. ইউনূস কেমন “নকল” ভারত বিরোধিতা করে গেলেন?
> সিলেটে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ১২২, আরও দুই শিশুর মৃত্যু
> প্রতিবন্ধী কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে কথিত অবৈধ সম্পর্কের সময় আটক জামায়াত নেতা
> বাংলা চলিত গদ্যের পথিকৃৎ প্রমথ চৌধুরী: স্মরণে প্রজ্ঞার ব্যঙ্গকার ‘বীরবল’
> সিলেট মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৯ যাত্রীর, আহত ১৪
> চট্টগ্রামে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের পৈতৃক বাসভবনে হামলা ও আগুন
> বনানীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মশাল মিছিলের চেষ্টা, আটক ৭
> শ্রীপুরে আওয়ামী লীগ নেতা বুলবুল গ্রেপ্তার: পাঠানো হলো আদালতে
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস শাখা, ঠিকানা ও ফোন নম্বর
> ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দের তালিকা ও ফোন নম্বর
> করিয়ারদিয়ায় মাছের ঘের দখলচেষ্টা, অস্ত্রসহ দুইজন জনতার হাতে আটক
> বানরের আতঙ্কে ভীত লালবাজারবাসী ডিসি বরাবর আবেদন
> চাটখিলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য