খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম

শেরপুরের নকলা উপজেলায় দুটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু ও নারীসহ অন্তত ২৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সাথে লোকালয়ে ঢুকে কুকুর দুটি অন্তত ৬টি গবাদিপশুকেও কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নকলা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই আকস্মিক ঘটনায় পুরো পৌর এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মানুষজন লাঠিসোটা হাতে নিয়ে সতর্কাবস্থায় চলাচল করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার সকাল থেকেই একটি লালচে রঙের পাগলা কুকুর পৌর শহরের গ্রিনরোড, দড়িপাড়া, উত্তর কায়দাসহ বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে ছোটাছুটি শুরু করে। কুকুরটি এতটাই হিংস্র হয়ে উঠেছিল যে, রাস্তার যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়াতে তেড়ে গেছে। এমনকি মাঠে চরে খাওয়া গরু-ছাগলকেও রেহাই দেয়নি সেটি।
দুপুরের দিকে প্রথম কুকুরটির সাথে আরও একটি পাগলা কুকুর যোগ দেয়। দুটি কুকুর মিলে পথচারীদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালাতে থাকে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে যারা বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করছিল।
আহতদের মধ্যে কয়েকজন হলেন:
রায়ান (৫) ও মীম (৫) — বাজারদি এলাকা
রিয়াজ আহম্মেদ (২০) — বাজারদি এলাকা
ঝিনুক (৯) — উত্তর কায়দা এলাকা
সজিব (১৩) — উত্তর কায়দা এলাকা
জিহাদ (৯) — কুর্শা এলাকা
বিকেলের দিকে অতিষ্ঠ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করে একটি পাগলা কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। তবে অপর কুকুরটি এখনো এলাকায় আত্মগোপন করে আছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
কুকুরের কামড়ে একের পর এক মানুষ জখম হতে থাকায় নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকেরা তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ড্রেসিংয়ের ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের অধিকাংশেরই হাত ও পায়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। দুজনের শারীরিক অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
“এখানে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে এর আগে কখনো এক দিনে কুকুরের কামড়ে এত বেশি রোগী হাসপাতালে আসতে দেখিনি। আক্রান্তদের সবাইকে সরকারিভাবে সরবরাহ করা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কুকুরের কামড়ের শিকার হলে অবহেলা না করে ক্ষতস্থানটি তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো ক্ষারযুক্ত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে আসতে হবে।”
আক্রান্তদের পরিবার এবং নকলা পৌরসভার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান বা বন্ধ্যাত্বকরণ (ভ্যাকসিনেশন ও স্টেরিলাইজেশন) কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ক্ষুধার্থ ও জলাতঙ্কগ্রস্ত এসব কুকুর প্রায়শই সাধারণ পথচারীদের ওপর এভাবে হিংস্র আক্রমণ চালাচ্ছে। তারা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অতি দ্রুত কুকুর নিধন না করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চালু করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে নকলা পৌরসভা থেকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-রেবিস (এআরভি) ভ্যাকসিন হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে রোগীদের যদি কোনো জরুরি ওষুধ কিনতে হয়, তবে সেই খরচও নকলা পৌরসভা বহন করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
মন্তব্য