খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ১১:৩২ পিএম

সারাদেশে শিশুদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ছোঁয়াচে রোগ হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় ‘নিশ্চিত হাম’ হিসেবে প্রমাণিত কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে নতুন করে আরও এক হাজারেরও বেশি শিশু হাম ও হামের বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
আজ বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো হাম সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে সংক্রমণের এই উদ্বেগজনক চিত্র জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে পাঁচজন শিশু মারা গেছে, তাদের মধ্যে চারজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। অন্য একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। অর্থাৎ রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকায় এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আক্রান্তের দিক থেকেও পরিস্থিতি বেশ চিন্তার। গত একদিনে সারাদেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৯২ জন শিশু হাম ও হামের নানা উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক সন্দেহভাজন রোগীর মধ্য থেকে ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে ১৭২ জন শিশুর শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ১৫ জুলাই পর্যন্ত গত চার মাসের একটি সামগ্রিক পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি তথ্যমতে, এই চার মাসে দেশে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৬ জনে। আর ল্যাব টেস্টে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৫ জন শিশু।
সব মিলিয়ে গত চার মাসে মোট ৯৬ হাজার ৮৭৮ জন শিশু সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশই সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে। চিকিৎসা শেষে এখন পর্যন্ত মোট ৯৩ হাজার ২৬০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। বাকিরা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও ভাইরাসজনিত রোগ। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সাধারণত আক্রান্ত শিশুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই রোগ দ্রুত অন্য শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ ওঠা, চোখ লাল হওয়া, সর্দি ও কাশির মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হলো যথাসময়ে টিকা নেওয়া। যেসব অভিভাবক এখনো তাদের শিশুদের হামের প্রতিষেধক বা এমআর (Measles-Rubella) টিকা দেননি, তাদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। একই সাথে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য