রাজধানীর হাতিরঝিল ও হাজারীবাগ এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় এক শিশু মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাগুলো ঘিরে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
হাতিরঝিল থানার পুলিশ জানায়, হাতিরঝিলের মহানগর প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত আল-ফুরকান মসজিদ মাদ্রাসার দশ বছরের শিক্ষার্থী তাহমিদুল ইসলামকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রামপুরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মরদেহ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহমিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার কাজীপুর গ্রামের শাহিন রেজার সন্তান। সে আল-ফুরকান মসজিদ মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সেখানে থাকত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার একটি জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে সে ফাঁস দেয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা তাকে আর বাঁচাতে পারেননি।
ঘটনার পর হাতিরঝিল থানার এক কর্মকর্তা জানান, শিশুটির মৃত্যুকে ঘিরে কিছু বিষয় অস্পষ্ট রয়েছে। কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি সার্বিক তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও যাচাই করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অন্যদিকে, একই রাতে রাজধানীর হাজারীবাগের টালি অফিস এলাকায় মো. নাঈম নামে সতেরো বছরের এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাঈমের বাবা আবদুল মান্নান জানান, তিনি ও তার ছেলে ভ্যানে করে ফল বিক্রির কাজ করতেন। ঘটনার সময় তিনি পাশের একটি গলিতে ছিলেন। পরে বৃষ্টির কারণে বাসায় ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে তিনি ও স্থানীয়রা জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নাঈম পরিবারের সঙ্গে হাজারীবাগ এলাকায় বসবাস করত। সে দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল। তার এমন মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে পরিবারের কেউ নিশ্চিত কিছু বলতে পারেনি।
হাজারীবাগ থানার পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দুইটি পৃথক ঘটনারই প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য