খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই মার্চ ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
বাংলাদেশ সরকার দেশের শিল্প খাতে ভারতের ও চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণশক্তি যোগ করবে এবং উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে উপদেষ্টা তিতুমীর ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে দেশের অর্থনীতি ক্ষয়প্রাপ্ত অবস্থায় ছিল। আমাদের উদ্দেশ্য হলো শিল্পায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।”
Table of Contents
উপদেষ্টা তিতুমীর জানান, বৈঠকে মূলত ভারত ও চীনের সঙ্গে চলমান প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে লাইনের ক্রেডিট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা হয়েছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় আলোচিত ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের অগ্রগতি, যার মধ্যে মাত্র ৮.২ বিলিয়ন ডলারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা এবং তা শিল্পায়নের জন্য ব্যবহার করা। এজন্য বাংলাদেশ সরকার, চীনের রাষ্ট্র মালিকানাধীন সংস্থা এবং ব্যক্তিমালিকানা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে একটি কার্যকরী ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা যেতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। ভুটান, নেপালসহ চার দেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে উন্নয়নের সম্পর্ক নতুনভাবে প্রসারিত করা হবে।”
তিনি বাংলাদেশের ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের সঙ্গে ভারতের আধার কার্ডের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সম্ভাবনা নিয়েও আলাপ করেছেন। এতে প্রতিবেশী দেশের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের জনসেবা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, “বিনিয়োগ বৃদ্ধি মানেই উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন বৃদ্ধি মানেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বাড়লে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ইতিমধ্যেই রয়েছে, কিন্তু শিল্পায়ন আরও প্রয়োজন।”
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা | রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা |
| বৈঠক স্থান | সচিবালয়, ঢাকা |
| অংশগ্রহণকারী | ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন |
| আলোচিত বিষয় | চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা, শিল্পায়ন বৃদ্ধি |
| চীনের প্রকল্প | ২০১৬ সালের ২০ বিলিয়ন ডলার প্রকল্প, বাস্তবায়িত ৮.২ বিলিয়ন ডলার |
| ভারতীয় প্রকল্প | লাইনের ক্রেডিট ও বর্তমান প্রকল্পের পর্যালোচনা |
| মূল লক্ষ্য | বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রাজস্ব ও সামাজিক খাতে বিনিয়োগ |
উপদেষ্টা তিতুমীর আরও বলেন, “আমরা ঋণের সংস্কৃতি থেকে বিনিয়োগের সংস্কৃতিতে যেতে চাই। শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে আমরা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছি।”
মন্তব্য