বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দাবি করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার নিজের স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ লঙ্ঘন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার সম্প্রতি জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণ এই অভিযোগের সূত্রপাত করেছে।
তিনি জানান, ১৭ অক্টোবর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ওই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতি এবং নোট অব ডিসেন্ট স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার নতুন প্রস্তাব ও নির্দেশনা সনদের বাইরে এবং পূর্ববর্তী ঐকমত্যের পরিপন্থী। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামক নতুন বডি গঠনের প্রস্তাব জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে কখনো আলোচিত হয়নি।
সালাহউদ্দিন বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরিত বিষয়গুলি ছাড়া নতুন কোনো প্রস্তাব জবরদস্তি আরোপ করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এতে জাতীয় ঐক্য না সৃষ্টি হয়ে বিভাজন বৃদ্ধি পাবে।” তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বের ওপর কি এভাবে হস্তক্ষেপ করা হবে? এভাবে কোনো আদেশ বৈধ হতে পারে না।”
তিনি আরও যুক্তি দেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদে সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার কার্যকর করার প্রস্তাব সংবিধানগত অধিকার ও প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। জাতীয় সংসদই একমাত্র সার্বভৌম হাউস যেখানে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো এখতিয়ার রয়েছে। অন্য কোনো কমিশন বা সরকার কোনো সিদ্ধান্ত আরোপ করতে পারবে না।
সালাহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, “সংকট সৃষ্টি করেছেন জুলাই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং সরকার। প্রধান উপদেষ্টা তার নিজের স্বাক্ষরিত সনদের বাইরে গিয়ে নতুন প্রস্তাব এনেছেন, যা রাজনৈতিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কিত।” বিএনপি এই অবস্থায় স্বাক্ষরিত সনদ অনুযায়ী নীতি বাস্তবায়নের দাবি করছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত নতুন বিষয়গুলো জাতীয় ঐক্য এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। “এতে শুধু কোনো পক্ষ খুশি হতে পারে, কিন্তু সমগ্র রাষ্ট্রীয় ঐক্য ভেঙে পড়বে,” তিনি বলেন।
