খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ৫:২৫ পিএম

লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসার ভেতরে এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে উপজেলার ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই তাকে আটক করা হয়। ধৃত শিক্ষকের নাম মাওলানা আব্দুল আহাদ (৪৫)। তিনি স্থানীয় ‘পপুলার আইডিয়াল হিফজ মাদ্রাসা’র প্রধান বা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মায়ের দায়ের করা মামলায় সোমবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাতে। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের বিবরণ থেকে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ১২ বছর বয়সী ওই ছাত্রকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ। সেখানে কোনো প্রতিরোধ করার সুযোগ না দিয়ে অবুঝ শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর আতঙ্কে ও ভয়ে শিশুটি স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। তবে পরদিন রবিবার দুপুরে কোনোমতে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে সে নিজের বাড়িতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
বাড়িতে ফিরেই কান্নায় ভেঙে পড়ে ১২ বছরের ওই শিশু। তার অস্বাভাবিক আচরণ দেখে মা কারণ জানতে চাইলে সে শিক্ষকের নির্মম আচরণের কথা প্রকাশ করে। এই খবরটি মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা রবিবার রাতেই ওই মাদ্রাসায় চড়াও হয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদকে আটকে রাখে।
উত্তেজনাজনক পরিস্থিতির খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং একই সাথে ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে রাতেই শিশুর মা বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নির্মম ঘটনার পর থেকে শিশুটি প্রচণ্ড মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির মন জুড়ে এখন শুধুই আতঙ্ক। সে এতটাই ভয় পেয়েছে যে, আর কখনো ওই মাদ্রাসায় কিংবা অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাওয়ার নামও মুখে নিতে পারছে না। সামান্য বয়সে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হওয়া শিশুটির মানসিক সুস্থতা নিয়ে চিন্তিত তার অভিভাবকেরা। তারা এই ঘটনার পেছনে আর কোনো অপরাধ লুকিয়ে আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। সেই সাথে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন, যেন আর কোনো শিশুর জীবন এভাবে বিপন্ন না হয়।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি ও প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলা রুজু করার পর সোমবার দুপুরে আসামিকে লক্ষ্মীপুর আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওসি আরও জানান, ঘটনার গভীরতা ও বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত সব ধরনের তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তীতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য