খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৫৮ পিএম

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় রোলারের চাপায় প্রাণ হারালেন মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু মো. আজিম। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে হাতিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সড়ক নির্মাণকাজ চলাকালীন এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আজিম পশ্চিম বেজুগালিয়া গ্রামের কৃষক বেলাল উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই ওই এলাকায় রোলার দিয়ে সড়ক নির্মাণকাজ চলছিল। দুপুরের দিকে কৌতূহলবশত আজিম নির্মাণস্থলে যায়। তখন অসাবধানতাবশত তার একটি পা রোলারের নিচে চলে যায়। মুহূর্তেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শিশুটি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা বেলাল উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“চালক নতুন ছিল। সকালে আমি নিজেই বলেছিলাম, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাবধানে কাজ করতে হবে। যদি আমার কথাগুলো শোনতেন, আজ আমার ছেলেটা বেঁচে থাকত। আমি শুধু চাই আমার সন্তানের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার হোক।”
হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এ ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন,
“এ ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা নিহত শিশুর পরিবারের পাশে থাকবে। যে কোনো প্রয়োজনে আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করব।”
স্থানীয়রা শোক ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। শিশুর মৃত্যুর পর এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং নির্মাণকাজের সময় সতর্কতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয়রা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত শিশু | মো. আজিম, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র |
| বয়স | আনুমানিক ৭–৮ বছর |
| মৃতের পিতা | বেলাল উদ্দিন, কৃষক |
| দুর্ঘটনার স্থান | হাতিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড |
| দুর্ঘটনার সময় | ১০ জানুয়ারি, দুপুরের পর |
| দুর্ঘটনার কারণ | সড়ক নির্মাণের রোলারের সঙ্গে দুর্ঘটনা |
| কর্তৃপক্ষের মন্তব্য | আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে |
এ ঘটনায় সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা এবং সড়ক নির্মাণকাজে সতর্কতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। স্থানীয়রা চাইছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা পুনরায় ঘটবে না এবং শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য