
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের ওপর অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের চাপ নিয়ে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিত ব্যবহারের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল আসায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে প্রকৃতভাবে গিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ যাচাই না করেই অনুমানের ভিত্তিতে বিল তৈরি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় চলতি মাসে বিল তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে নিম্নআয়ের পরিবার ও ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইমরান মিয়া জানান, তাঁর একটি ছোট দোকানের মাসিক বিদ্যুৎ বিল সাধারণত পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু জুন মাসে হঠাৎ করে বিল আসে চার হাজার আটশ টাকা। পরে তিনি মিটারের পরিমাপ যাচাই করতে গিয়ে দেখেন, কাগজে উল্লেখিত হিসাবের সঙ্গে বাস্তব ব্যবহারের বড় ধরনের অমিল রয়েছে। পরে অফিসে যোগাযোগ করলে বিল কিছুটা সংশোধন করে এক হাজার আটশ টাকা নির্ধারণ করা হয় বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে ভানুগাছ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল অদুদ অভিযোগ করেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের পূর্বের সব বিল পরিশোধ করা থাকলেও চলতি মাসের বিলের সঙ্গে পূর্ববর্তী বছরের একটি পুরোনো বিল যুক্ত করে পাঠানো হয়েছে। এতে তিনি বিভ্রান্তিতে পড়েছেন এবং ব্যবসা বন্ধ রেখে বারবার বিদ্যুৎ কার্যালয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ ধরনের অভিযোগ শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। ভানুগাছ, মুন্সিবাজার, পতনঊষার, আলীনগর, মাধবপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য গ্রাহক একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানা গেছে। অনেকেই বলছেন, মাসের পর মাস ধরে প্রকৃত পরিমাপ না নিয়ে একসঙ্গে একাধিক মাসের হিসাব করা হচ্ছে, যার কারণে বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিমাপ নেন না। বরং দীর্ঘ সময় পর একসঙ্গে হিসাব করে বিল তৈরি করা হয়। এতে ব্যবহারভিত্তিক সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এবং গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গিয়ে ভুক্তভোগীরা আরও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, বিল সংশোধনের জন্য গেলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক রঞ্জন কুমার ঘোষ গ্রাহকদের সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে কিছু গ্রাহকের বিল সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুরোনো হিসাব নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত নির্ভুল পরিমাপ নিশ্চিত করে অতিরিক্ত ও ভুল বিল সংশোধন করা না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে। তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে পরিমাপ গ্রহণ এবং স্বচ্ছ হিসাব ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
> কমলগঞ্জে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভোগান্তি
> ছুটির বিরোধে প্রধান শিক্ষককে মারধর
> পঞ্চগড় সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশে বাংলাদেশি আটক
> হোদেইদাহে হামলায় ১৪ সেনা নিহত
> রাজধানীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও কিশোরের ঝুলন্ত মৃত্যু
> মাদ্রাসায় ৮ বছরের শিশুকে লাগাতার যৌন নিপীড়ন: অভিযুক্ত শিক্ষকসহ ৩ শিক্ষার্থী
> হামে আরও সাত শিশুর মৃত্যু, নতুন করে আক্রান্ত ৯২৫
> ‘বি’ডে’ বর্ষপূর্তির আগে নতুন গান প্রকাশ বিয়ন্সের
> বাংলা ভাষার নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক – অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> পুতুলনাট্যে মুস্তাফা মনোয়ারের আজীবন সাধনা
> স্মরণ আঁধারের আলোকবর্তিকা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম
> হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় আগামী ৩০ জুন
> ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> জাপানের বিপক্ষে আজ নেইমার কত মিনিট খেলবেন, জানালেন আনচেলত্তি
> কার্বন ক্রেডিট বিক্রি: ২৫ কোটি গাছ রোপণে বাংলাদেশের বিলিয়ন ডলারের আয়ের সম্ভাবনা
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য