খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জুলাই ২০২৬, ৬:২০ পিএম

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটির আবেদন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ছুটির আবেদন করতে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করেন। তখন ছুটি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে দাবি করা হয়েছে। উপস্থিত অন্য শিক্ষকরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, কক্ষে একাধিক শিক্ষক ও দাপ্তরিক কর্মী উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় দেলোয়ার হোসেন তাঁর শিশুসন্তানকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং একটি চেয়ারে বসেন। কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষক নিজের চেয়ার ছেড়ে জানালার পাশে দাঁড়ান। ঠিক তখনই উত্তেজিত হয়ে দেলোয়ার হোসেন তাঁর ওপর চড়াও হন। এ সময় কক্ষে থাকা অন্যরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক কক্ষ ত্যাগ করেন এবং পরে কক্ষের ভেতরে কিছু কাগজপত্র ও চেয়ার এলোমেলো অবস্থায় দেখা যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া অভিযোগ করে জানান, সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে দায়িত্বে অবহেলা করে আসছিলেন এবং তাঁর আচরণ নিয়ে আগেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের নির্ধারিত কাজের প্রয়োজনে ওই দিন ছুটি দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ শিক্ষক সমাবেশসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নির্ধারিত ছিল। ছুটি না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই তিনি আক্রমণের শিকার হন বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ঘটনার ব্যাখ্যায় ভিন্ন দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক সংকট এবং অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু ছুটি না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে চাপে পড়ে যান এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এ ঘটনার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা সরেজমিন তদন্ত করেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে দুই শিক্ষকের মধ্যে গুরুতর বিরোধের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে প্রতিবেদন দেবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয় এলাকায় এ ঘটনা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দিয়েছেন অনেকে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা নিয়ে এখন অপেক্ষা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মন্তব্য