খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জুলাই ২০২৬, ৫:১১ পিএম

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খান আবারও ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত ও সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ে করেছেন তিনি। বিশেষ এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন আমিরের তিন সন্তান—জুনায়েদ খান, ইরা খান ও আজাদ। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এই বিয়ে তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
রোববার মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় আমির খানের নিজ বাসভবনে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান বা তারকাখচিত আয়োজনের বদলে পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আত্মীয়স্বজনদের নিয়েই ছোট পরিসরে দিনটি উদ্যাপন করেন নবদম্পতি। ব্যক্তিগত জীবনের এই সিদ্ধান্তে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
আমির খানের মুখপাত্র ভারতীয় গণমাধ্যমকে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লাগান চলচ্চিত্রের নির্মাতা আশুতোষ গোয়ারিকার এবং অভিনেত্রী এলি আব্রামসহ আমিরের দীর্ঘদিনের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আগে থেকেই আমির জানিয়েছিলেন, তিনি বড় আয়োজনের পরিবর্তে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিয়ে করবেন এবং প্রিয়জনদের নিয়ে সীমিত পরিসরে আনন্দ ভাগ করে নেবেন। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাই বাস্তবে রূপ পেয়েছে।
আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাটের পরিচয়ের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। প্রায় ২৫ বছর আগে তাদের প্রথম পরিচয় হলেও দীর্ঘ সময় সম্পর্কটি বন্ধুত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরে ২০২৪ সালে আমিরের কাজিন নুজহাত খানের মাধ্যমে বেঙ্গালুরুতে আবার তাদের যোগাযোগ শুরু হয়। সেই পুনর্মিলনের পর ধীরে ধীরে সম্পর্ক নতুন রূপ নিতে থাকে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে তারা জীবনের নতুন সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
সে সময় গৌরী বেঙ্গালুরুতে বসবাস করতেন, আর আমির ছিলেন মুম্বাইয়ে। প্রায় এক বছর পর গৌরী তার ছেলেকে নিয়ে মুম্বাইয়ে চলে আসেন। এরপর থেকেই তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। চলতি বছরের মার্চে আমির খানের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে গৌরীকে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। তখন আমির বলেছিলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত, স্থির ও পরিপূর্ণ অনুভব করেন। একই সঙ্গে গৌরীর সঙ্গে সম্পর্ক তাকে মানসিক নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেছিলেন। যদিও সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, আবার বিয়ে করার পরিকল্পনা তার নেই। কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই অবস্থানের পরিবর্তন ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন এই অভিনেতা।
এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে তিনি রীনা দত্তকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—জুনায়েদ খান ও ইরা খান। ২০০২ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটলেও সন্তানদের লালন-পালন এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনে দুজন এখনো পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখেছেন।
পরবর্তীতে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির খান। ২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেয় তাদের ছেলে আজাদ। ২০২১ সালে তাদের বিচ্ছেদ হলেও পেশাগত ও পারিবারিক সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ রয়েছে। বর্তমানে কিরণ রাও আমির খান প্রোডাকশনসের বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রকল্পে তারা একসঙ্গে কাজ করে চলেছেন। পাশাপাশি সমাজসেবামূলক উদ্যোগ ‘পানি ফাউন্ডেশন’-এর কার্যক্রমেও আমির খান, কিরণ রাও এবং রীনা দত্তের অংশগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিবর্তনের মধ্যেও আমির খান বরাবরই পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সাবেক দুই স্ত্রীর সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক ধরে রাখা, সন্তানদের জীবনে সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং নতুন জীবনের সূচনায় তাদের পাশে রাখা—সব মিলিয়ে এই বিয়ে শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পারিবারিক বন্ধনের একটি ইতিবাচক বার্তাও বহন করছে। বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতার নতুন জীবন নিয়ে ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও শুভকামনার পরিবেশ।
মন্তব্য