ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ধারণা করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ ও সামরিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা করেছিলেন, এই কৌশল আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির শর্ত নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই সময়সীমায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এই সময়সীমা ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ সীমিত করবে।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ (সংক্ষেপে)
| তারিখ/সময়কাল | ঘটনা |
|---|---|
| সাম্প্রতিক সপ্তাহ | যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রাথমিক চুক্তি আলোচনার ঘোষণা |
| মধ্যবর্তী সময় | ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি আলোচনার পরিকল্পনা |
| সাম্প্রতিক ফোনালাপ | গাজা ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু মতবিরোধ |
| সম্প্রতি | বৈরুতে হামলা পরিকল্পনা ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি |
| আগামী শুক্রবার | সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা |
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়েও ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে সামরিক কার্যক্রম সীমিত করার কথা বলা হলেও ইসরায়েল তা মানতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।
একটি ফোনালাপে, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত হয়েছে, ট্রাম্প নেতানিয়াহুর লেবানন অভিযানের পরিকল্পনাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। এর পরও এক সপ্তাহের মধ্যে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং উভয় পক্ষকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে সতর্ক করে।
পরবর্তীতে জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু স্বীকার করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অনেক বিষয়ে একমত হলেও নিরাপত্তা ও নীতিগত প্রশ্নে ভিন্নমত হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির একটি লক্ষ্য হলো লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক করা। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।
ইসরায়েলের ভেতরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর জন্য এই পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অঙ্গীকার নিয়ে ইসরায়েলিদের আস্থা কমছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, আলোচনার এই পর্যায়ে দেশটির প্রভাব সীমিত হয়েছে।
নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৬০ দিনের অন্তর্বর্তী সময়সীমা শেষ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং এই সময় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে একটি বিস্তৃত চুক্তির দিকে অগ্রসর হতে চাইছে। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যদি ইরান পুনরায় পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, তাহলে তারা এককভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করবে।