খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ৩:৪৯ পিএম

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আরেকটি রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা। শেষ ষোলোতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে এবার সুইজারল্যান্ড। অতীতের মুখোমুখি পরিসংখ্যান আলবিসেলেস্তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা বহন করলেও, নকআউট ফুটবলের বাস্তবতা বলছে—একটি ভুলই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র।
শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্তও পরাজয়ের শঙ্কা তাড়া করছিল দলটিকে। তবে শেষ মুহূর্তের অসাধারণ প্রত্যাবর্তনে তিনটি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিওনেল মেসির দল। সেই নাটকীয় জয় শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেনি, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও জীবন্ত রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডও কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছে দারুণ লড়াই করে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করে সুইসরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এমন সাফল্য তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে নিঃসন্দেহে।
তবে দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাস সুইজারল্যান্ডের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। এখন পর্যন্ত সাতবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখনও পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে হারানোর স্বাদ পায়নি সুইজারল্যান্ড।
বিশ্বকাপের মঞ্চেও আধিপত্য আর্জেন্টিনারই। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথম দেখায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি ২-০ ব্যবধানে জয় পায়। এরপর ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও দুই দলের দেখা হয়। সেবার নির্ধারিত সময়ে গোল না হলেও অতিরিক্ত সময়ে করা একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের বাইরে প্রীতি ম্যাচগুলোতেও এগিয়ে রয়েছে আলবিসেলেস্তারা। ১৯৮০ সালে তারা ৫-০ গোলের বড় জয় পায়। ১৯৮৪ সালে জয় আসে ২-০ ব্যবধানে এবং ২০১২ সালে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত করে সুইজারল্যান্ডকে। কেবল ১৯৯০ ও ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত দুটি প্রীতি ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল।
সব মিলিয়ে সাতটি মুখোমুখি লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা করেছে ১৫টি গোল, বিপরীতে সুইজারল্যান্ডের গোল মাত্র চারটি। গোলের ব্যবধান থেকে শুরু করে জয়-পরাজয়ের হিসাব—সব দিক থেকেই পরিষ্কারভাবে এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা।
সংক্ষেপে দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যান:
| পরিসংখ্যান | তথ্য |
|---|---|
| মোট ম্যাচ | ৭ |
| আর্জেন্টিনার জয় | ৫ |
| সুইজারল্যান্ডের জয় | ০ |
| ড্র | ২ |
| আর্জেন্টিনার মোট গোল | ১৫ |
| সুইজারল্যান্ডের মোট গোল | ৪ |
| বিশ্বকাপে মুখোমুখি ম্যাচ | ২ |
| বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জয় | ২ |
| বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের জয় | ০ |
| প্রীতি ম্যাচ | ৫ |
| প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয় | ৩ |
| প্রীতি ম্যাচে ড্র | ২ |
তবে পরিসংখ্যান সব সময় ফল নির্ধারণ করে না। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। আর্জেন্টিনা শেষ দুই নকআউট ম্যাচেই কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চাপের মুখে পড়েছে, যা তাদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাই মনে করিয়ে দেয়। অন্যদিকে ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সুইজারল্যান্ড ইতিহাস গড়ার অনুপ্রেরণা নিয়েই মাঠে নামবে।
অতীতের রেকর্ড আর্জেন্টিনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে, কিন্তু সেটি কোনো নিশ্চয়তা নয়। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে কেবল মাঠের লড়াইয়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট, অতিরিক্ত সময় কিংবা প্রয়োজন হলে টাইব্রেকার—যে পথেই হোক, শেষ পর্যন্ত যে দল চাপ সামলে নিজেদের সেরাটা খেলতে পারবে, তারাই জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের শেষ চারে।
মন্তব্য