নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ইলিয়াস হোসেন ওরফে জয় (২৭)। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার গোকনগর এলাকার মৃত হারুন মিয়ার সন্তান। পরবর্তীতে তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার নয়ামাটি অঞ্চলেও বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
র্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ফতুল্লা থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে চলছিলেন।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পলাতক আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও তথ্য যাচাইয়ের পর তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায়। পরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে ফতুল্লা থানায় নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যাতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে সমাজে বিচরণ করতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
নিচে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
বিষয়
বিবরণ
আসামির নাম
ইলিয়াস হোসেন ওরফে জয়
বয়স
২৭ বছর
স্থায়ী ঠিকানা
গোকনগর, রায়পুরা, নরসিংদী
বসবাসের এলাকা
নয়ামাটি, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ
মামলার ধরন
হত্যা মামলা
রায়
যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড
গ্রেপ্তারের সময়
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা
গ্রেপ্তারের স্থান
জালকুড়ি, সিদ্ধিরগঞ্জ
অভিযানকারী সংস্থা
র্যাব-১১
পরবর্তী পদক্ষেপ
ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় অবস্থান করতেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে মিশে পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করতেন। তবে শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
র্যাব কর্মকর্তারা আরও জানান, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পলাতক অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্তব্য