খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুন ২০২৬, ৩:২৩ পিএম

চার বছর পর এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলে ফিরে মোসাদ্দেক হোসেন দারুণ এক ইনিংস উপহার দেন, যা পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংকে নতুন প্রাণ দেয়। তাঁর অপরাজিত ৮৬ রানের ঝলমলে ইনিংসের ওপর ভর করে স্বাগতিক বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে। বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগলেও শেষ পর্যন্ত তিনশ রানের মাইলফলক ছোঁয়া সম্ভব হয়নি।
ইনিংসের শুরুটা ছিল নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত। ওপেনিং জুটিতে ব্যাটাররা ধীরে কিন্তু স্থিরভাবে রান তুলতে থাকেন। তবে মূল ভিত গড়ে ওঠে দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন ও তানজিদ তামিমের ৯৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে। এই জুটি দলকে স্থিতি এনে দেয় এবং বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি করে। তানজিদ ৫৪ রান করে বিদায় নেন, আর নাজমুল হোসেন করেন ৬৭ রান।
মাঝের দিকে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি। বিশেষ করে পঞ্চম উইকেটে তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে আবারও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। হৃদয় ৩১ রান করে আউট হলেও মোসাদ্দেক ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সমন্বয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন। তিনি মাত্র ৭০ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৮৬ রান করেন, যা তার এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে মোসাদ্দেকের ৪৫ রানের দ্রুতগতির জুটি বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করে। তাসকিন ১৬ বলে ২০ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হন। তবে শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের ব্যাটিং কিছুটা ছন্দ হারায়; এই সময়ে মাত্র ৭০ রান যোগ হয় এবং চারটি উইকেট হারানো বড় সংগ্রহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা বিশেষ করে মাঝের ওভারে দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখায়। নাথান এলিস ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার, তিনি ৩৮ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। স্কট ৫৭ রান খরচায় ২টি উইকেট নেন এবং রেনশ ৩৫ রান দিয়ে ২টি উইকেট লাভ করেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং শেষ দিকে বাংলাদেশের রান বৃদ্ধিকে সীমিত করে দেয়।
বাংলাদেশের ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো—
| ব্যাটসম্যান | রান | বল | চার | ছক্কা | অবস্থা |
|---|---|---|---|---|---|
| মোসাদ্দেক হোসেন | ৮৬* | ৭০ | ৭ | ৩ | অপরাজিত |
| নাজমুল হোসেন | ৬৭ | — | — | — | আউট |
| তানজিদ তামিম | ৫৪ | — | — | — | আউট |
| তাওহিদ হৃদয় | ৩১ | — | — | — | আউট |
| তাসকিন আহমেদ | ২০ | ১৬ | — | — | আউট |
সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ইনিংসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি ম্যাচকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় নিয়ে যায়। তবে শেষ দিকে দ্রুত উইকেট পতন এবং অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সুশৃঙ্খল ডেথ ওভার বোলিংয়ের কারণে দলটি তিনশ রানের কাঙ্ক্ষিত সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। তবুও মোসাদ্দেক হোসেনের অনবদ্য ইনিংস দলকে একটি লড়াকু সংগ্রহ এনে দিয়েছে, যা ম্যাচে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করার মতো যথেষ্ট সম্ভাবনা রাখে।
মন্তব্য