খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুন ২০২৬, ১১:২২ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক দীর্ঘ সময় কারিগরি বিভ্রাটের পর অবশেষে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে হঠাৎ শুরু হওয়া এই বৈশ্বিক বিভ্রাটের পর রাত আটটা পঁচিশ মিনিটের দিকে ফেসবুকের সেবা পুনরায় সচল হতে শুরু করে। তবে প্রাথমিক সংযোগ স্থাপন সম্ভব হলেও প্ল্যাটফর্মটির বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ফিচার এখনো পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য সাধারণ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন।
ফেসবুকের মূল প্ল্যাটফর্মটি আংশিক সচল হলেও এর তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদান করার মাধ্যম ‘মেসেঞ্জার’ নিয়ে জটিলতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী তথ্য নিশ্চিত করেছেন যে, তারা এখনো মেসেঞ্জার অ্যাপে প্রবেশ করতে পারছেন না। মূলত মূল ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সাথে মেসেঞ্জারের সংযোগ স্থাপনে বিলম্ব বা ত্রুটিজনিত কারণে এই স্থবিরতা বজায় রয়েছে।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কোটি কোটি ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হন। বিভ্রাটের শুরুতেই ব্যবহারকারীরা তাদের সচল অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ-আউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এরপর পুনরায় সঠিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেও অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করতে না পারা, ইন্টারনেটের সংযোগ সচল থাকা সত্ত্বেও নিউজ ফিড আপডেট বা রিফ্রেশ না হওয়া এবং মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগআউট হয়ে যাওয়ার মতো একাধিক বড় ধরনের জটিলতা দেখা দেয়।
মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের পাশাপাশি কম্পিউটারের ওয়েব ব্রাউজার থেকেও মেটার এই প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটিতে প্রবেশ করতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা ব্যর্থ হন। একই সময়ে মেসেঞ্জার অ্যাপের মাধ্যমে কোনো বার্তা বা ফাইল আদান-প্রদান করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে স্ক্রিনে ‘সেশন এক্সপায়ার্ড’ বা ‘সামথিং ওয়েন্ট রং’ জাতীয় ত্রুটিপূর্ণ বার্তা প্রদর্শিত হতে থাকে। আকস্মিক এই গোলযোগের কারণে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছাড়াও ফেসবুক-ভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবসায়িক পেজ ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে।
বিশ্বজুড়ে যখন এই বিভ্রাট চলছিল, তখন ইন্টারনেটের গতি ও বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘ডাউনডিটেক্টর’-এ লাখ লাখ ব্যবহারকারী ফেসবুক ও মেসেঞ্জার নিয়ে তাদের অভিযোগ জানাতে শুরু করেন। শুধু বাংলাদেশেই নয়, এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে একই সময়ে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হওয়ায় এর স্থবিরতা সামগ্রিক ইন্টারনেট ট্রাফিকের ওপরও প্রভাব ফেলে। অনেক ব্যবহারকারী বিকল্প হিসেবে অন্যান্য যোগাযোগ অ্যাপ ব্যবহার শুরু করায় সেসব প্ল্যাটফর্মেও হুট করে চাপ বেড়ে যায়। প্রযুক্তিগতভাবে এই ধরনের বিভ্রাটকে ‘গ্লোবাল আউটরিচ ডিসকানেকশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা কেন্দ্রীয় সার্ভারের কার্যকারিতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে সংঘটিত হয়।
এই বড় ধরনের কারিগরি বিভ্রাটের ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের মধ্যেও ব্যাপক বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রাথমিক অবস্থায় তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ইন্টারনেট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে জানা যায় যে, এটি কোনো একক অ্যাকাউন্ট কেন্দ্রিক সমস্যা resignation নয়, বরং একটি বড় মাপের কেন্দ্রীয় কারিগরি বিপর্যয়।
সাধারণত মেটার মূল ডেটা সেন্টারের সার্ভার ডাউন হওয়া, কনফিগারেশন পরিবর্তনজনিত জটিলতা বা ডোমেন নেম সিস্টেম (ডিএনএস) ত্রুটির কারণে এই ধরনের বৈশ্বিক বিভ্রাটের উৎপত্তি হয়ে থাকে। তবে আজ সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই দীর্ঘস্থায়ী বিভ্রাটের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার (Meta) পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো অফিশিয়াল বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি। মেটার কারিগরি দল বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির সমস্ত ফিচার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মেইন সার্ভার সম্পূর্ণ সচল হওয়ার পর মেটার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা দুঃখপ্রকাশ করা হতে পারে বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
মন্তব্য