বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে বরিশাল নগরীর দক্ষিণ পলাশপুর এলাকায় কাউনিয়া থানা পুলিশ একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ওই মাদক ব্যবসায়ীর নাম মো. রাসেল হাওলাদার (৩৫)। সে বরিশাল নগরীর দক্ষিণ পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা বাদশা হাওলাদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরেই সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
যেভাবে চালানো হলো এই বিশেষ অভিযান
কাউনিয়া থানা পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে নগরীর দক্ষিণ পলাশপুর এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান হাতবদল হতে যাচ্ছে। এমন খবরের ভিত্তিতে কাউনিয়া থানার একটি চৌকস টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পুরো এলাকাটি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় রাসেল হাওলাদারকে চ্যালেঞ্জ করে আটক করেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা।
পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষীদের সামনে রাসেলের দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে নীল রঙের বিশেষ প্যাকেটে মোড়ানো মোট ৮00 পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত এই ইয়াবা চালানের আনুমানিক বাজার মূল্য কয়েক লাখ টাকা। এই মাদকগুলো সে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের কাছে মজুত রেখেছিল বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য
অভিযান শেষে কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ ৮০০ পিস ইয়াবাসহ মো. রাসেল হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে পুরোপুরি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত কমিশনারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় নগরীকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত করতে তাদের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হচ্ছে। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদকের উৎসে আঘাত হানাই এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য।
ওসি আরও বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় কাউনিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে এই চালানের সাথে অন্য কোনো বড় চক্র বা গডফাদার জড়িত রয়েছে কিনা, তা জানার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে।” আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আগামীকাল সকালে রাসেল হাওলাদারকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে থানা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এলাকাকে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত রাখতে এই ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রাখার দাবি তুলেছেন।









