জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

চট্টগ্রামে আরও ১৩ জনের হাম শনাক্ত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৪৮

চট্টগ্রামে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। জেলাজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৩ জনের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নতুন এই রোগীদের নিয়ে জেলায় ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২১ জনে। সোমবার (২৯ জুন) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ নিয়মিত প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের হাম পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

সরকারি প্রতিবেদনটির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া ৩২১ জন রোগীর মধ্যে সিংহভাগই বিভাগীয় শহর বা মহানগরের বাসিন্দা। তথ্য অনুযায়ী, মোট আক্রান্তের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের ২৬৬ জন এবং বাকি ৫৫ জন জেলার ১৫টি বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। শহরাঞ্চলে ঘনবসতি বেশি হওয়ায় সেখানে এই ছোঁয়াচে রোগের বিস্তার গ্রামীণ এলাকার চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

উপচে পড়া হাসপাতাল ও চিকিৎসাব্যবস্থা

নতুন করে সংক্রমণ ছড়ানোর পাশাপাশি প্রতিদিন হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে হামের লক্ষণ বা উপসর্গযুক্ত রোগীর ভিড়। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের নানা উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ৫৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চট্টগ্রামের বিশেষায়িত ও সাধারণ হাসপাতালগুলোতে মোট ২৪৮ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা এই ২৪৮ জনের মধ্যেও মহানগরের বাসিন্দা ২৪৭ জন এবং মাত্র একজন উপজেলার বাসিন্দা। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, বন্দরনগরীর হাসপাতালগুলোর ওপর বর্তমানে কতটা তীব্র চাপ যাচ্ছে। অবশ্য চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠার হারও বেশ ইতিবাচক। গত এক দিনে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬১ জন রোগী। আর সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলাটিতে মোট ৩ হাজার ৪৬৭ জন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরতে পেরেছেন, যা কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর।

স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা ও টিকাদানের আহ্বান

চট্টগ্রামের সামগ্রিক হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে সংক্রমণ ঠেকাতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠ পর্যায়ে তাদের নজরদারি ও তৎপরতা বাড়িয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম সাধারণ মানুষের সচেতনতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সিভিল সার্জন জানান, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং বায়ুবাহিত রোগ, যা মূলত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। এটি প্রতিরোধ করার সবচেয়ে কার্যকর ও একমাত্র উপায় হলো সময়মতো শিশুকে হামের প্রতিষেধক বা এমআর টিকা দেওয়া। তিনি সব অভিভাবককে তাদের শিশুদের টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে নির্ধারিত সরকারি টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এর পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের আইসোলেশনে রাখা, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং আক্রান্ত এলাকায় সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি ও চামড়ায় লালচে র‍্যাশ বা দানাদার দাগের মতো কোনো প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য তিনি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর