খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৩ এএম

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় এক যুবকের প্রেমিকার বাড়িতে অনশন শুরু করার ঘটনা পুরো এলাকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। যুবকটি দাবি করেছেন, তিনি প্রিয় মানুষকে ফিরে পেতে এবং বিয়ের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। ঘটনাটি স্থানীয় গণমাধ্যমে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অনশনে বসা যুবক হলেন বিশ্বজিৎ পাত্র (২৮), ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং বিপ্রদাশ পাত্রের ছেলে। তাঁর প্রেমিকা অনুশীলা বাড়ৈ, পাশের বাড়ির বাসিন্দা। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে বিশ্বজিৎ অনশনে বসেছেন। তিনি বলেন, বিয়ের স্বীকৃতি ছাড়া তিনি শান্তিতে থাকতে পারছেন না।
Table of Contents
বিশ্বজিৎ পাত্র জানিয়েছেন, “আমি ও অনুশীলা ১০ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক শুরু করি। পরে সেই সম্পর্ক এগিয়ে গিয়ে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে চার বছর আগে বৈধ বিবাহে পরিণত হয়। স্ত্রীর শিক্ষার জন্য আমি প্রায় ১৫–২০ লাখ টাকা খরচ করেছি। কিন্তু সম্প্রতি অনুশীলা একটি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে আমি বিয়ের স্বীকৃতি ও প্রিয় মানুষকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে অনশনে বসেছি।”
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, “বিশ্বজিতের অনশন এবং প্রেমিক-প্রেমিকার বিষয়টি এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই ঘটনা দেখতে ঘটনাস্থলে সমবেত হয়েছেন।”
অনুশীলা বাড়ৈ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে বিশ্বজিতের সম্পর্ক ছিল, তবে জোরপূর্বক কোর্ট ম্যারেজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। আমি এক সপ্তাহ আগে ডিভোর্স করেছি এবং আর সংসার করার কোনো ইচ্ছা নেই। বিশ্বজিতের অনশন সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত।”
ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনার বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| যুবকের নাম | বিশ্বজিৎ পাত্র (২৮) |
| গ্রামের নাম | আলিসাকান্দি, নবগ্রাম ইউনিয়ন, ডাসার, মাদারীপুর |
| প্রেমিকার নাম | অনুশীলা বাড়ৈ |
| সম্পর্কের ইতিহাস | ১০ বছর প্রেম, ৪ বছর কোর্ট ম্যারেজ |
| খরচের পরিমাণ | ১৫–২০ লাখ টাকা (শিক্ষা ও অন্যান্য খরচ) |
| দাবি | বিয়ের স্বীকৃতি ও পুনর্মিলন |
| প্রেমিকার প্রতিক্রিয়া | ডিভোর্স করেছেন, সংসার করার ইচ্ছা নেই |
| পুলিশী অবস্থান | তদন্ত চলছে, লিখিত অভিযোগ না হলে আইনগত ব্যবস্থা স্থগিত |
মাদারীপুরের এই অনশন কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় নয়, এটি সামাজিক ও স্থানীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রেমিকের বিয়ের দাবির সঙ্গে প্রেমিকার প্রত্যাখ্যান এবং পুলিশের আপাত নীরব অবস্থান এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে স্থানীয় প্রশাসন হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুবকের অনশন ও প্রেমিকার অবস্থানই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। আইনগত ব্যবস্থার আলোকে এই ঘটনা কিভাবে সমাধান হয়, তা স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
মন্তব্য