পদ্মা সেতুতে দুই বাসের সংঘর্ষে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

পদ্মা সেতুতে চলন্ত দুই বাসের সংঘর্ষে তোফায়েল মিয়া (২৭) নামের এক চালকের সহকারী প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে সেতুর জাজিরা প্রান্তের ২৯ নম্বর পিয়ারের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তোফায়েল বসুমতী পরিবহনের ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে চলাচলরত বাসের চালকের সহকারী ছিলেন। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকার প্রয়াত সেলিম মিয়ার ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশের সূত্রে জানা যায়, রাতে ঢাকা থেকে কুয়াকাটাগামী ‘পদ্মা স্পেশাল’ নামের একটি বাস সেতু পারাপার হচ্ছিল। সেতুর ২৯ নম্বর পিয়ার এলাকায় পৌঁছালে, ঠিক পিছনে থাকা বসুমতী পরিবহনের আরেকটি বাস সামনের বাসটিতে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কার কারণে বসুমতী বাসের সহকারী তোফায়েল মিয়া ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ১০ যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার পর সেতুর কর্মী ও পুলিশ আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার কারণে এক ঘণ্টার মতো পদ্মা সেতুর মাওয়া থেকে জাজিরা প্রান্তমুখী যান চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ দুর্ঘটনাক্রান্ত বাস দুটি সরানোর পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জাজিরা পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করি। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন। বাস দুটি পুলিশ জব্দ করেছে।”

দুর্ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে সেতু ও মহাসড়কে যানবাহনের নিরাপদ দূরত্ব এবং সাবধানী চালনা অপরিহার্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং পরিবহন শ্রমিকদের উপর দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে দীর্ঘ সময় সেতুতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী ও গাড়ি চরম অসুবিধার মুখে পড়েছেন।

পদ্মা সেতুতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।