ভারত সরকার শনিবার বীমা খাতে শতভাগ বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই নীতির আওতায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন ব্যবস্থার মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলোতে সম্পূর্ণ মালিকানা গ্রহণ করতে পারবেন। এ তথ্য সংবাদ সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জীবন বীমা খাতে ভারতের জীবন বীমা কর্পোরেশন একটি পৃথক কাঠামোর অধীনে থাকবে। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগের সীমা স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ বিশ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাণিজ্য ও শিল্প উন্নয়ন দপ্তর একটি নতুন প্রেস বিজ্ঞপ্তি (২০২৬ সংস্করণ) জারি করে জানিয়েছে, দেশীয় বীমা কোম্পানিগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ, এমনকি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও এখন থেকে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন ব্যবস্থার অধীনে অনুমোদিত হবে। তবে এটি কার্যকর থাকবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং যাচাই সাপেক্ষে।
এই নীতি পরিবর্তনটি “সবার জন্য বীমা, সবার সুরক্ষা” শীর্ষক বীমা আইন সংশোধন ২০২৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আনা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় আগেই ঘোষণা করেছিল যে, ওই আইনের বেশিরভাগ ধারা ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে, তবে একটি নির্দিষ্ট ধারা তখন কার্যকর হবে না।
নতুন নীতিতে বিদেশি শেয়ারহোল্ডিং বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া শুধু বীমা কোম্পানি নয়, বীমা মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বীমা দালাল, পুনর্বীমা দালাল, কর্পোরেট এজেন্ট, তৃতীয় পক্ষ প্রশাসক, জরিপকারী ও ক্ষতি নির্ধারক, ব্যবস্থাপনা এজেন্ট এবং বীমা রেজিস্ট্রি সংস্থা। তবে এসব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত শর্তাবলি অনুসরণ করতে হবে।
আগেই ২০২০ সালে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ অনুমোদিত ছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালে সরকারি জীবন বীমা কর্পোরেশনে বিদেশি বিনিয়োগের সীমা বিশ শতাংশে উন্নীত করা হয়।
নতুন নীতিতে ব্যাংক যদি বীমা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে, তবে তার ক্ষেত্রে মূল খাত অনুযায়ী বিদেশি বিনিয়োগের সীমা প্রযোজ্য থাকবে। তবে শর্ত হলো, ওই প্রতিষ্ঠানের মোট আয়ের অর্ধেকের বেশি বীমা-বহির্ভূত খাত থেকে আসতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিদেশি মালিকানাধীন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোম্পানি আইনের অধীনে সীমিত দায়িত্বসম্পন্ন কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে।
নিচের টেবিলে নতুন নীতির প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | নতুন নীতি |
|---|---|
| বীমা কোম্পানি | শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ অনুমোদিত |
| জীবন বীমা কর্পোরেশন | সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ |
| মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান | শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ অনুমোদিত |
| অনুমোদন পদ্ধতি | স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন ব্যবস্থা |
| নিয়ন্ত্রক শর্ত | সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন বাধ্যতামূলক |
| মূল্য নির্ধারণ | বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী নির্দেশনা প্রযোজ্য |
এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে ভারতের বীমা খাতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হলো, যা দীর্ঘমেয়াদে খাতটির কাঠামোগত বিনিয়োগ প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে।
