মাঝামাঝি জুনে বাজারে আসবে রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আম

রংপুর অঞ্চলের সুস্বাদু ও আঁশবিহীন হাঁড়িভাঙ্গা আম চলতি বছরের জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে বাজারে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই সময় থেকেই জেলার অন্যতম জনপ্রিয় এই আম বাজারজাত শুরু হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন ফলনের আশা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী এবার মোট উৎপাদিত আমের সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ২২০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি টাকার মধ্যে।

গত বছরের তুলনায় এবার ফলন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কারণ, এটি হাঁড়িভাঙ্গা আমের অধিক ফলনের বছর হিসেবে পরিচিত, যখন আগের বছরের তুলনায় গাছে বেশি ফল ধরে। গত বছর তুলনামূলক কম ফলন হওয়ায় এবার গাছে প্রচুর আম এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষের পরিসংখ্যান

বিষয়তথ্য
মোট চাষের জমিপ্রায় ৩,৫০০ হেক্টর
হাঁড়িভাঙ্গা আমের জমি২,০০০ হেক্টরের বেশি
গড় ফলন১০–১২ মেট্রিক টন প্রতি হেক্টর
সম্ভাব্য বাজারমূল্য২২০–২৫০ কোটি টাকা

রংপুর ছাড়াও বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, নীলফামারীর সৈয়দপুর, সদর এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর, খানসামা ও চিরিরবন্দর এলাকায় হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান গড়ে উঠেছে। এসব অঞ্চলে বাগান মালিকরা নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে আমের গুণগত মান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে কিছু এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি কিছুটা ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি আমের বৃদ্ধি ও রসালো হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। কিছু স্থানে ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে সামান্য ক্ষতি হলেও সামগ্রিক উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকা হাঁড়িভাঙ্গা আমের প্রধান উৎপাদন ও পাইকারি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানকার খোড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জ হাট দেশের অন্যতম বড় আমের পাইকারি বাজার হিসেবে বিবেচিত। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এই হাটের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আগাম যোগাযোগ করছেন। ফলে এবার বাজারে চাহিদা ও দাম উভয়ই ভালো থাকার আশা করা হচ্ছে।

হাঁড়িভাঙ্গা আম দ্রুত পচনশীল হওয়ায় সংরক্ষণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এ কারণে আধুনিক হিমাগার ও দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত হচ্ছে।

হাঁড়িভাঙ্গা আমের উৎপত্তিস্থল ও পরিচিতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে এই আম রপ্তানি হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন ও সরাসরি বাগান থেকে বিক্রির প্রবণতাও বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত পরামর্শ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ফলনের মান বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ আশা করছে, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে চলতি মৌসুমে হাঁড়িভাঙ্গা আম রংপুর অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।