জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৩৩ পিএম

ঢাকার কেরানীগঞ্জে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) স্বাক্ষর জাল করে মিস কেসের আবেদন করার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁদের একজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলেও অপরজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার (৩ আগস্ট) কেরানীগঞ্জ মডেল ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুজন হলেন সুমন ও কামরুল হাসান শাহিন। তাঁদের মধ্যে সুমনকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে শাহিনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জ মডেল ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল মাওয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছেড়ে দেওয়া শাহিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির সভাপতি শামীম হাসানের ভাই। অন্যদিকে আটক সুমন জিনজিরা এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মামুনের ভাই বলে পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক সম্পর্কের সঙ্গে ঘটনার আইনি প্রক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।
কেরানীগঞ্জ মডেল ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মান্দাইল মৌজায় ৫৮ শতাংশ জমি নিয়ে একটি মিস কেসের আবেদন করা হয়েছিল। জমিসংক্রান্ত ওই মামলার শুনানির দিন সোমবার নির্ধারিত ছিল। শুনানির সময় আবেদন-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়ার স্বাক্ষরে অসঙ্গতি দেখতে পান কর্মকর্তারা।
পরে নথিপত্র আরও যাচাই করে দেখা যায়, আবেদনপত্রে ব্যবহৃত স্বাক্ষরটি জাল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মিস কেসের রেজিস্টারে উল্লেখ করা নম্বর নিয়েও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সুমন ও তাঁর সঙ্গে থাকা শাহিনকে আটক করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া বলেন, মিস কেসের শুনানির সময় একটি নতুন ফাইল যাচাই করতে গিয়ে তাঁর স্বাক্ষর নকল করার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ছাড়া রেজিস্টারে দেওয়া নম্বরও সঠিক ছিল না বলে তিনি জানান। মামলার মূল বাদীও শুনানির সময় উপস্থিত ছিলেন না।
জান্নাতুল মাওয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা শাহিন নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে যাচাই করে তাঁকে আইনজীবী হিসেবে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। পরে শাহিন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন মুচলেকা দিয়ে চলে যান। অন্যদিকে সুমনকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে ভূমি অফিসে জাল নথি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে জমিসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং মিস কেসের আবেদনটি কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পরই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।
এ ঘটনায় জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া তথ্য ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়টি এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটিও তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
মন্তব্য