বাম্পারে লুকানো দশ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় মহাসড়কে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে একটি পিকআপ গাড়ির পেছনের বাম্পারের ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকানো ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লোহাগাড়া থানা পুলিশ মহাসড়কে নিয়মিত তল্লাশি জোরদার করে। এ সময় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি সাদা রঙের পিকআপ গাড়িকে সন্দেহজনক মনে হলে থামার সংকেত দেওয়া হয়। সংকেত পেয়ে গাড়িটি থামলে তল্লাশি শুরু করা হয়।

তল্লাশির সময় গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে, পিকআপের পেছনের বাম্পারের ভেতরে মাদক লুকানো রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাম্পার খুলে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় থাকা পাঁচটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেট খুলে টিস্যু পেপারে মোড়ানো মোট ১০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, মাদক পরিবহনের জন্য গাড়িটির যান্ত্রিক অংশে বিশেষভাবে গোপন কুঠুরি তৈরি করা হয়েছিল, যাতে সাধারণ তল্লাশিতে সহজে ধরা না পড়ে। এটি একটি পরিকল্পিত ও কৌশলগতভাবে সাজানো পাচার পদ্ধতি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল থেকেই দুইজনকে আটক করা হয় এবং পিকআপটি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো—

নামবয়সঠিকানাপিতার নাম
মোঃ মনির হোসেন৩৯ বছরগুণবতী ইউনিয়ন, খাটরা গ্রাম, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লাআলী হোসেন
রিয়াদুল ইসলাম৩০ বছরদক্ষিণ কলাতলী, ঝিলংজা, কক্সবাজার পৌরসভাছালেহ আহমদ

লোহাগাড়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে একটি সুপরিকল্পিত মাদক পাচার চক্রের কৌশল উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের চেষ্টা চলছে, তবে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর কারণে এসব চক্র ধরা পড়ছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ ১০ হাজার পিস এবং এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও জানায়, মহাসড়কে সন্দেহজনক যানবাহন তল্লাশি আরও কঠোর করা হবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে মাদক চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এই সফল অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, নিয়মিত ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকলে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা মহাসড়কে নিরাপত্তা ও তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় মাদক চক্রের সক্রিয়তা ও পাচারের নতুন কৌশল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।