জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ থেকে সম্ভাব্য আয় ভাগাভাগি নিয়ে বিতর্ক এবার আইনি লড়াইয়ের দিকে গড়াচ্ছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি কথিত গোপন পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিষয়টি এখন শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব ফিফার নেতৃত্ব, সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপরও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ইনফান্তিনোর একটি পরিকল্পনাকে ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ থেকে ফিফার সম্ভাব্য লভ্যাংশের একটি বড় অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে ফিফার সদস্য দেশগুলোকে এককালীন ২ কোটি মার্কিন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার কথা ছিল। ফুটবল প্রশাসনে এমন আর্থিক কাঠামো বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ আয় ও ফিফার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারত।
পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইউরোপীয় ফুটবল মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উয়েফা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষ এ ধরনের উদ্যোগের বিরোধিতা করে। তাদের আপত্তির মূল জায়গা ছিল বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ রাজস্বকে আগাম বেসরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং এর ফলে ফিফার আর্থিক স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ।
চাপ বাড়তে থাকলে ইনফান্তিনো শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি থেকে সরে আসেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পরও বিরোধ থামেনি। বরং বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে উয়েফার পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক ‘প্রিজারভেশন লেটার’-এর মাধ্যমে।
এই ধরনের আইনি নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফিফার ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত নথি, বার্তা, ই-মেইল এবং অন্যান্য যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ উয়েফা বিষয়টি নিয়ে আরও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা ও ইনফান্তিনো ছাড়াও সংস্থাটির আরও ১৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও আইনি পর্যালোচনার কথা ভাবছে উয়েফা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত মামলা বা সালিশি কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উয়েফার সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সম্ভাব্য আইনি বিরোধ নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইনফান্তিনো প্রায় এক দশক ধরে ফিফার নেতৃত্বে রয়েছেন। তার সময়ে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ, সম্প্রচারস্বত্ব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে এই বিতর্ক কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনার বিরোধ নয়; এটি ফিফার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক নীতি এবং নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনছে।
এদিকে, ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উয়েফা কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করবে কি না, কিংবা আগামী নির্বাচনে নেতৃত্বের পরিবর্তনের জন্য ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসন কতটা সক্রিয় হবে—সেদিকেও নজর থাকবে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলের। ফলে বিশ্বকাপের লভ্যাংশ নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ আগামী ফিফা সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে আরও বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংঘাতে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য