জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৬:২১ পিএম

ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার সামনে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে কয়েক দফায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেলের দিকে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ লোহার পাইপ হাতে মাদরাসার প্রধান ফটকের কাছে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। দুই পক্ষের অবস্থানকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এর আগে বেলা তিনটার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মাদরাসার বাইরের দিকে এবং শিবিরের নেতা-কর্মীরা আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একই দিনে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আলিয়া মাদরাসা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ওই ঘটনার পর থেকেই আলিয়া মাদরাসার সামনে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে বিকেলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করতে হয়।
সংঘর্ষের কারণে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আশপাশের সড়কেও এর প্রভাব পড়ে।
তবে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা এবং তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত এবং দুই পক্ষের মধ্যে ঠিক কী কারণে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
মন্তব্য