জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৮:১৬ পিএম

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে যে দুটি সংগঠন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে লড়েছিল, তাদেরই মুখোমুখি রক্তাক্ত অবস্থান আজ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশ্ন তুলছে—ঐক্য কি তবে ফিকে হয়ে যাচ্ছে?
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ কিংবা ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা—সর্বত্রই একই চিত্র। রাজনৈতিক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, ব্যানার অপসারণ, হলের সিট কিংবা ক্যাম্পাস দখলের মতো ইস্যু নিয়ে বিএনপি সমর্থিত ছাত্রদল এবং জামায়াত সমর্থিত ইসলামী ছাত্রশিবির দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দেশীয় অস্ত্রের মহড়া এবং এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা তাদের প্রিয় জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতির সঙ্গে চরম বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
সংঘাতের পেছনে ক্ষমতার সমীকরণ ও ঐতিহাসিক বিভাজন
জুলাই আন্দোলনের সময় যে কৌশলগত ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা ছিল একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য—শেখ হাসিনার সরকারকে পতন ঘটনানোর জন্য। কিন্তু ক্ষমতা পরিবর্তনের পর ক্যাম্পাসে একক প্রভাব বিস্তারের পুরোনো রাজনৈতিক মানসিকতা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই: সরকার পরিবর্তনের পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল দখলদারিত্বমুক্ত, শান্ত ক্যাম্পাস। কিন্তু হল ও সিট দখল এবং অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রভাব জাহির করার চর্চা ফের শুরু হয়েছে, যা দুই দলের মুখোমুখি অবস্থানের মূল কারণ।
আদর্শিক দ্বন্দ্বের প্রকাশ: বেরোবিতে যুদ্ধাপরাধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডা প্রমাণ করে যে, কৌশলগত জোটের আড়ালে জমে রাজনৈতিক মতাদর্শও এখানে বড় ভূমিকার রাখছে। বিএনপি ও ছাত্রদল জানে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে এই দেশে রাজনীতি করা যাবেনা। তাই তারা মুক্তিযুদ্ধকে সামনে আনছে।
মূল দলের ঐক্য বনাম মাঠের বাস্তবতায় দূরত্ব: যখন বিএনপি ও জামায়াতের মতো মূল দলগুলো শেখ হাসিনার সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন বা ষড়যন্ত্র রুখতে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিচ্ছে, তখন রাজপথের সেই বার্তা ক্যাডারভিত্তিক ছাত্ররাজনীতিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। জাতীয় রাজনীতির কৌশলগত সমঝোতা ক্যাম্পাসের মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারছে না।
রাজনৈতিক সহাবস্থান নাকি নতুন বিশৃঙ্খলা?
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ভোগান্তি বাড়ায়নি, বরং পুরো অভ্যুত্থানের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জুলাইয়ে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল তা ক্ষোভ আর আধিপত্যের রাজনীতিতে হারিয়ে যেতে বসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে হলে প্রতিটি ছাত্র সংগঠনকে সংঘাতের পথ পরিহার করে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক চর্চা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অপরাধীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে এই ক্যাম্পাসগুলো আবারও অস্থিতিশীলতার দীর্ঘ চক্রে তলিয়ে যাবে।
মন্তব্য